দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: বিধায়ক বেসুরো হতেই ‘দাদার অনুগামী’ ফ্লেক্স পড়ল ময়নাগুড়িতে। ঘটনায় চাঞ্চল্য ময়নাগুড়ি বিধানসভা এলাকায়। মুখ্যমন্ত্রীর জলপাইগুড়ি সফরের আগে দুই দাদার ছবি দেওয়া ফ্লেক্স ঘিরে চাঞ্চল্য জলপাইগুড়ি জেলা জুড়ে।
বুধবার রাতে ময়নাগুড়ি শহর ছেয়ে গেল শুভেন্দু অধিকারীর ছবির সঙ্গে ‘লড়াইয়ের মাঠে দেখা হবে’ লেখা ফ্লেক্সে। আর এই ফ্লেক্স ঘিরে সকাল হতেই জোর জল্পনা শুরু হয়েছে ময়নাগুড়িতে। মঙ্গলবার সংবাদমাধ্যমে প্রশান্ত কিশোরের বিরূদ্ধে বিষোদগার করেছিলেন ময়নাগুড়ির তৃণমুল বিধায়ক অনন্তদেব অধিকারী। বলেছিলেন ‘‘প্রশান্ত কিশোরের উপর ভরসা করে গোটা সংগঠনের সর্বনাশ হয়ে যাচ্ছে। যাঁরা দলটাকে আজ এই জায়গায় নিয়ে এসেছে তাঁরাই এখন গুরুত্বহীন। এভাবে চলতে পারে না।’’ আর তার কয়েকঘন্টা পর শহরে পোষ্টার পড়ায় জোর জল্পনা শুরু হয়েছে ময়নাগুড়িতে।
জলপাইগুড়ি শহরে গত কয়েকমাস ধরে দাদার অনুগামী ফ্লেক্স লাগিয়েছে শুভেন্দু অনুগামীরা। তাই এই ঘটনা এখন জলপাইগুড়ি শহরে জলভাতের মতো। কিন্তু রাজীব ব্যানার্জীর ছবি দেওয়া দাদার ভক্ত ফ্লেক্স একেবারেই নতুন। তাই এই ফ্লেক্সকে ঘিরে শহরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে।
পেশায় ব্যবসায়ী ময়নাগুড়ির বাসিন্দা শ্যামল সরকার বললেন, ‘‘গতকাল অনেক রাতে আমি দোকান বন্ধ করেছি। তখন পোস্টার ছিল না। আজ সকালে দেখলাম পোস্টার পড়েছে। লেখা আছে দাদার অনুগামী। শুভেন্দুর ছবি আছে। কারা যে লাগাল জানতেই পারলাম না।’’
জলপাইগুড়ির বাসিন্দা স্বপন সরকার বললেন, ‘‘পুজোর পর থেকে আমরা শুভেন্দু অধিকারীর পোস্টার দেখছি। কিন্তু আজ আমরা দাদার ভক্ত ফ্লেক্স দেখে হতবাক হয়ে গেলাম। সবাই আসছে। দেখছে। কেউ আবার ছবিও তুলে নিয়ে যাচ্ছে।’’
তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক তথা যুব তৃনমূলের প্রাক্তন জেলা সভাপতি বুবাই কর বলেন, ‘‘আমি বরাবর দাদার অনুগামী। এবং আমরাই বিভিন্ন জায়গায় এই ধরনের ফ্লেক্স ছাপিয়ে লাগাচ্ছি। গতকাল ময়নাগুড়িতে ফ্লেক্স লাগিয়েছিলাম।’’
তৃণমূলের জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী অবশ্য এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তবে রাজনৈতিক মহলের ধারনা ১৫ ডিসেম্বর জলপাইগুড়ি সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেদিন জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার এই দুই জেলার কর্মীদের নিয়ে জলপাইগুড়িতে কর্মী সম্মেলন করবেন তিনি। তার আগে এই ধরনের ফ্লেক্স লাগিয়ে অস্তিত্ব জানান দিয়ে চাইছেন শুভেন্দু অধিকারী ও রাজীব ব্যানার্জীর শিবিরের লোকজন।