বিবেক সিংহ, মালদহ: শুখা মরসুমে ভাঙন রোধের কাজ শুরুর দাবিতে এককাট্টা হলেন মানিকচক ব্লকের নদী তীরবর্তী গ্রামের মানুষ। যেভাবেই হোক ভাঙন রোধের কাজ শুরু করার দাবি তুলেছেন তাঁরা। শুখা মরসুমে কাজ না হওয়ায় প্রতি বর্ষায় তাঁদের ভিটেমাটি হারানোর ভয় নিয়ে রাত কাটাতে হয় বলে নদী তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী এই পরিবারগুলির দাবি।
ভাঙন কবলিত এলাকা হিসেবে পরিচিত মানিকচক ব্লক। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ভাঙন চলছে গোটা ব্লক জুড়ে। সম্প্রতি আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে নদী পারে। বর্ষা আসার আগেই অনবরত একের পর এক ধস পড়ছে। একে করোনা আতঙ্ক। দোসর ভাঙন। ঘুম ছুটেছে মানিকচক ব্লকের নদী তীরবর্তী গ্রামের মানুষের। ভাঙ্গন রোধের কাজ না হওয়ায় রাজ্য ও কেন্দ্র দুই সরকারের উদাসীন মনোভাবকে দায়ী করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাঁদের অভিযোগ, শেষবার ভাঙন রোধের কাজ হয়েছিল ২০১৪ সালে। সেই সময় মানিকচক, ধরমপুর, গোপালপুর অঞ্চলে নদীর ধার বোল্ডার দিয়ে বাঁধানো হয়েছিল। ফারাক্কা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ সেই কাজ করেছিল। তারপর থেকে আর এই এলাকায় ভাঙন রোধে কোনও কাজ করেনি কেন্দ্র-রাজ্য, কোনও সরকারই। এবার বর্ষা আসার আগেই আবার ভাঙন শুরু হয়েছে। অনবরত ধস পড়ছে নদীতে। এই সুখা মরসুমে দ্রুত ভাঙ্গন রোধের কাজ না করলে আবার বেশ কিছু গ্রাম তলিয়ে যাবে নদীগর্ভে। ভাঙন রোধের কাজ রাজ্য বা কেন্দ্র, যে সরকারই করুক তা যেন দ্রুত হয়।
ভাঙন কবলিত এলাকা ধরমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য ফুলবতী মণ্ডল বলেন, ‘‘অনবরত ভাঙন চলছে। একটু একটু করে জমি দিনের পর দিন নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে। কিছু জায়গায় বাঁধের কাছে এসে পৌঁছেছে নদী। আমরা পঞ্চায়েত থেকে লিখিতভাবে বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানাব।’’
জেলা বামফ্রন্টের নেতা দেবজ্যোতি সিনহা বলেন, ‘‘গঙ্গা নদীর ভাঙ্গন দিনের পর দিন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি করছে। সামনেই বর্ষার মরসুম। এখনই ভাঙন রোধের কাজ শুরু না হয় তাহলে বিরাট বিপদের সম্মুখীন হবে মানিকচক। বেশ কিছু জায়গায় নদী বাঁধের কাছে এসে পৌঁছেছে। কেন্দ্র-রাজ্য দুই সরকারেরই দায়িত্ব ছিল। কিন্তু কারও কোনও ভূমিকা দেখা যায়নি। গত বছর উত্তর মালদহের মানুষ ভয়ঙ্কর বন্যা দেখেছেন। এই বছর হয়তো মানিকচক সহ দক্ষিণ মালদহের কয়েকটা ব্লকে ভয়ঙ্কর রূপ দেখতে হবে।’’
মালদহের জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল অবশ্য এরজন্য কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধেই অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘‘কেন্দ্রের ফারাক্কা ব্যারেজ প্রকল্পের অধীনে ৪০ কিলোমিটার গঙ্গা নদী ভাঙন রোধের কাজ তাদেরই করার কথা। মুখ্যমন্ত্রী বারবার অনুরোধ করেছেন ভাঙন রোধের কাজ শুরু করার জন্য। তবু কেন্দ্র সরকার দ্বিচারিতা করছে।’’ তিনি জানান, রাজ্য সরকারের তরফে ভুতনির হিরানন্দপুরে কাজ শুরু করা হয়েছে। যেহেতু লকডাউন চলছে, তাই কাজের গতি কম। রাজ্যের সেচ দফতর জরুরীকালীন ভিত্তিতে কাজ শুরু করবে।