দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: করোনা নিয়ে গুজবের জেরে এবার বিপাকে খোদ চিকিৎসক। বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত ওই চিকিৎসক উত্তর ২৪ পরগনার হাসনাবাদের বাসিন্দা। সেখানে তাঁর পরিবারকে কার্যত একঘরে করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। উপায়ান্তর না দেখে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন চিকিৎসক শ্রীদীপ মণ্ডল।
বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক শ্রীদীপবাবু। তিন বছর ধরে এখানে কর্মরত তিনি। তাঁর বাড়ি হাসনাবাদের বাদামতলা এলাকায়। মাস দুয়েক আগে শেষবার বাড়ি গিয়েছিলেন শ্রীদীপবাবু। তারপর থেকেই হাসপাতালের ফ্লু ক্লিনিকে ভিড় বাড়ায় তাঁর সমস্ত ছুটি বাতিল হয়।
সমস্যা সৃষ্টি হয় দিন তিনেক আগে। হঠাৎ করেই সোশ্যাল সাইটে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। যে পোস্টে বলা হয়, শ্রীদীপবাবু সম্প্রতি কানাডা থেকে ফিরেছেন এবং তিনি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। পুলিশ তাঁকে তুলে নিয়ে গেছে। এর পরেই হাসনাবাদে এই চিকিৎসকের পরিবারকে কার্যত একঘরে করেন পড়শিরা। বাড়ি থেকে তাঁদের বেরোনোর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে দিয়েছে এলাকার মানুষ। শ্রীদীপবাবুকে ফোন করেও ব্যতিব্যস্ত করতে থাকেন অনেকে। অথচ শ্রীদীপবাবু কানাডা যাননি এবং তিনি কোনওভাবেই করোনা আক্রান্ত নন। বরং ছুটি বাতিল করে বর্ধমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্লিনিকে অক্লান্তভাবে চিকিৎসা করছেন রোগীদের।
বুধবার বর্ধমান মেডিকেল কলেজের ডাক্তার কোয়ার্টারের সামনে দাঁড়িয়ে শ্রীদীপবাবু বলেন, ‘‘আমার বাবাও একজন চিকিৎসক এবং মা একজন নার্সিং স্টাফ। কিন্তু গত তিন-চারদিন তাঁদের বাড়ি থেকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না। রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন বাবা-মা। হাসনাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।’’ বিষয়টি জানিয়ে বর্ধমান মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর দাবি, যারা এই ধরনের গুজব ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। যদি এভাবে গুজব ছড়াতে থাকে তাহলে তাঁর পক্ষেও মানুষকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ায় কঠিন হয়ে দাঁড়াবে।