দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ দিনাজপুর: তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল দক্ষিণ দিনাজপুরে নতুন কোনও ঘটনা নয়। এর আগেও একাধিকবার নানা কারণে বিভিন্ন শিবিরের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছে। দলের কাজিয়া সামলাতে মুখ্যমন্ত্রীকেও হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। এবার জেলা কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা সভাপতির অনুপস্থিতি ফের একবার সেই বিতর্ক উস্কে দিল বালুরঘাটে।
তৃণমূল কংগ্রেস তৈরির সময় থেকেই দক্ষিণ দিনাজপুর তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও জেলা কার্যালয় ছিল না। গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা বিপ্লব মিত্র তৃণমূলের জেলা সভাপতি থাকাকালীন তাঁর বাড়ি থেকে বা গঙ্গারামপুরের একটি ক্লাব থেকে দল পরিচালনা করতেন। পরবর্তীতে শংকর চক্রবর্তী এবং অর্পিতা ঘোষ জেলা সভাপতি হয়েছিলেন। বালুরঘাটে তাঁদের একটি করে অফিস থাকলেও জেলা সদর বালুরঘাটে কোনও জেলা কার্যালয় তৈরি হয়নি।
বর্তমানে জেলার নতুন সভাপতি হয়েছেন গঙ্গারামপুরের বিধায়ক গৌতম দাস। জানা গিয়েছে, বালুরঘাটের প্রাক্তন বিধায়ক বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা চেয়ারম্যান শংকর চক্রবর্তীর উদ্যোগেই বালুরঘাটে একটি ভাড়াবাড়িতে জেলা কার্যালয় তৈরি হয়। মঙ্গলবার বালুরঘাটের কাঁঠালপাড়া এলাকায় এই জেলা কার্যালয়ের উদ্বোধন হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কুমারগঞ্জের বিধায়ক তোরাফ হোসেন মণ্ডল, তপনের বিধায়ক বাচ্চু হাঁসদা, জেলা কো-অর্ডিনেটর ললিতা টিগ্গা, সুভাষ চাকী সহ বিভিন্ন ব্লকের নেতারা উপস্থিত থাকলেও, উপস্থিত ছিলেন না তৃণমূল জেলা সভাপতি গৌতম দাস।
দলের জেলা কার্যালয় উদ্বোধনে জেলা সভাপতি না থাকায় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে দলের কর্মী সমর্থক থেকে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিপ্লব মিত্রের হাত ধরেই তৃণমূলে এসেছেন গৌতম। আর বিপ্লব মিত্রের সঙ্গে শঙ্কর চক্রবর্তীর সম্পর্কের টানাপড়েনও বহু শ্রুত। তাই শঙ্করবাবুর উদ্যোগে তৈরি হওয়ায় জেলা কার্যালয়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ইচ্ছে করেই গৌতমবাবু এড়িয়ে গেছেন বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহল। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব অবশ্য বিষয়টি মানতে চাননি।
তৃণমূল জেলা চেয়ারম্যান শংকর চক্রবর্তী বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরেই জেলায় দলের কোনও কার্যালয় ছিল না। কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে জেলা সদরে জেলা কার্যালয় তৈরির দাবি ছিল। সেই মতোই বালুরঘাটে তৃণমূলের জেলা কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়।’’ অপরদিকে তৃণমূল জেলা সভাপতি গৌতম দাস বলেন, ‘‘অন্তর্কলহ বা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কোনও বিষয়ই নেই। মঙ্গলবার রাজ্যজুড়ে বিধানসভার বিধায়কদের কিছু কর্মসূচি ছিল। নিজের বিধানসভা এলাকার তপনে এবং গঙ্গারামপুরে সেই কর্মসূচিতে আটকে পড়েছিলাম। তাই জেলা কার্যালয় উদ্বোধনে যেতে পারিনি।’’
এমন দিনে তবে জেলা কার্যালয়ের উদ্বোধন কেন হল, সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মেলেনি।