দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: বিজেপি কর্মী উলেন রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় এডিজি সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিল জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চ। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে তদন্তের কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে কলকাতা হাইকোর্টের জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে রায় ঘোষণা করেন বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের সিঙ্গেল বেঞ্চ।
গত ৭ ডিসেম্বর বিজেপির উত্তরকন্যা অভিযানকে ঘিরে রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয় শিলিগুড়িতে। ফুলবাড়ি এলাকায় মিছিল করে এগোনোর সময়ে পুলিশের লাঠির আঘাতে তাঁদের এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তোলে বিজেপি। আহত হওয়ার পরে উলেন রায় (৫০) নামে ওই বিজেপি কর্মীকে নিয়ে যাওয়া হয় শিলিগুড়ির একটা নার্সিংহোমে। পরে সেখানেই তিনি মারা যান বলে দাবি করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরে পুলিশ জানায়, শটগানের গুলি লেগেছিল তাঁর গায়ে। তাতেই মৃত্যু হয়েছে ওই কর্মীর। কিন্তু পুলিশ ওই শটগান ব্যবহারই করে না। ফলে পুলিশের মারে কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগ মিথ্যে বলেই দাবি করে রাজ্য পুলিশ। ট্যুইট করে তারা জানায়, ‘‘পুলিশ শটগান ব্যবহার করে না। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, গতকাল শিলিগুড়ির বিক্ষোভ মিছিলে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের আনা হয়েছিল। তারাই গুলি চালিয়েছিল। সেই গুলিই খুব কাছ থেকে লেগে মারা গেছেন ওই ব্যক্তি।’’
এরপরেই শুরু হয় টানাপড়েন। দেহ নিয়েও চলে দীর্ঘ আইনি লড়াই। ঘটনার তদন্ত শুরু করে সিআইডি। কিন্তু সিআইডি তদন্তে সন্তুষ্ট নন উলেন রায়ের পরিবার। সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়ে জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে রিট পিটিশন করে উলেন রায়ের স্ত্রী মালতী রায়। বুধবার জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চে বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যর এজলাসে সেই আবেদনের শুনানি হয়। শুনানিতে ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মহেশ জেটমালানি, কলকাতা হাইকোর্টের আইনজীবী রাজদীপ মজুমদারও। কলকাতা থেকে অ্যাডভোকেট জেনারেল অংশ নিয়েছিলেন এবং সুদীপ্ত দাস অ্যাসিস্ট্যান্ট সলিসেটার জেনারেল সিবিআই এর পক্ষে অংশ নেন। প্রায় দু ঘন্টা ধরে বিচারপতি মৌসুমী ভট্টাচার্যের এজলাসে শুনানি চলে। তারপরেই আজ রায় ঘোষণা হয়।
উলেন রায়ের পরিবারের আইনজীবী অভ্রজ্যোতি দাস জানান, ৫ মার্চের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশ দিয়েছে কোর্ট। পাশাপাশি ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্ট সার্কিট বেঞ্চে পেশেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।