দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার : আগুনে পুড়ে যাওয়া জলদাপাড়া অভয়ারণ্যের তৃণভূমি দেখতে গিয়ে ফিরে আসতে হল জলপাইগুড়ির অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরিকে। এই নিয়ে তৈরি হল তীব্র বিতর্ক। সীমা চৌধুরীর দাবি, খোদ বনমন্ত্রী তাঁকে ওই এলাকা পরিদর্শনে যেতে বলেছিলেন। তা সত্ত্বেও ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। জলদাপাড়ার ডিএফওর পাল্টা দাবি, যতদূর ভেতরে ঢোকার অনুমতি ছিল, ততটাই তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় বিধ্বংসী আগুনে ভস্মীভূত হয়ে যায় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ভিতর মালঙ্গি বিটে তোর্ষা নদীর চরের বিস্তীর্ণ তৃণভূমি। শুকনো ঘাসের জঙ্গল নিমেষে জ্বলে ওঠে দাউদাউ করে। স্হানীয় মানুষ, দমকল ও বনকর্মীদের চেষ্টায় রাত প্রায় বারোটা নাগাদ আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। বনকর্তাদের প্রাথমিক অনুমান, নদীতে মাছ ধরতে আসা মানুষদের ছুড়ে ফেলা বিড়ির আগুনেই পুড়ে সাফ হয়ে যায় ঘাসের জঙ্গল। জলদাপাড়া অভয়ারণ্যে এমন বিধ্বংসী আগুনে সাড়া পরে যায় গোটা রাজ্যে।
এই পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার জঙ্গল পরিদর্শনে গেলে জলপাইগুড়ির অনারারি ওয়াইল্ড লাইফ ওয়ার্ডেন সীমা চৌধুরীকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। সীমাদেবীর অভিযোগ, ‘‘আমাকে বনমন্ত্রী ওই এলাকা পরিদর্শনে যেতে বলেছেন। মঙ্গলবার ডিএফওর সঙ্গে কথা হয়েছিল। ওই দিন তিনি জানতেন আমি যাব। কিন্তু বুধবার আচমকা আমাকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হল না। আমি এই ঘটনায় অপমানিত এবং লজ্জিত বোধ করছি। হয়তো কিছু লুকোনোর জন্য আমাকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হল না।”
জলদাপাড়ার ডিএফও কুমার বিমলের পাল্টা দাবি, “রাজ্যস্তরের বনাধিকারিকের যতদূর ঢোকার অনুমতি ছিল ওনাকে ততদূর ঢুকতে দেওয়া হয়েছিল। আরও ভেতরে তাঁর আর ঢোকার অনুমতি ছিল না। সেই কারণে তাঁকে আর ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।”
দুই বনকর্তার এমন টানাপড়েনে আলোড়ন পড়ে গিয়েছে গোটা এলাকায়।