দ্য ওয়াল ঝাড়গ্রাম: জঙ্গলমহল উৎসবের সূচনাতেই বিতর্ক। ঝাড়গ্রামের বিজেপির সাংসদ কুণার হেমব্রম জঙ্গলমহল উৎসব উদ্বোধনের নির্ধারিত সময় দুপুর তিনটার সময় হঠাৎ করে মেলা প্রাঙ্গণে উপস্থিত হন। অভিযোগ, উৎসব প্রাঙ্গণে সাংসদ উপস্থিত হলে কেউ তাঁকে দেখে বসার জন্য বলেননি। সাংসদ নিজেই উৎসব প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখেন এবং জঙ্গলমহল উৎসবের মূল মঞ্চের সামনে দর্শকাসনে বসে পড়েন। প্রায় আধঘণ্টা ধরে দর্শকাসনে বসেছিলেন তিনি। চা পান করেন। তারপর হঠাৎ করেই উঠে চলে যান। যাওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘‘আমি বসে আছি বলে জঙ্গলমহল উৎসব উদ্বোধন করতে পারছে না প্রশাসন। তাই দুপুর ৩ টার জায়গায় এখনও উদ্বোধন হল না।’’ তখন ঘড়ির কাঁটা চারটে ছুঁইছুঁই।
ঝাড়গ্রামের সাংসদ বলেন, ‘‘আমি জঙ্গলমহলের মানুষদের কোনও অসুবিধা করে আনন্দটাকে মাটি করতে চাই না। ওনারা প্রোগ্রাম করুন, ভালো করুন,, সুন্দর করুন, আর আমাদের যাঁরা ভাই বোনেরা আজকে এখানে নাচ গান করছেন তারাও সুন্দর ভাবে করুক। আমি থাকলে হয়তো প্রশাসনের অসুবিধা হচ্ছে, মন্ত্রীদের অসুবিধা হচ্ছে, ওনারা আসতে পারছেন না এই জন্য আমি জায়গাটা ছেড়ে যাচ্ছি।’’
তাঁকে জঙ্গলমহল উৎসবের সূচনা অনুষ্ঠানে ডাকা হয়নি বলেও অনুযোগ করেন সাংসদ। বলেন, ‘‘না আমাকে ডাকা হয়নি । পশ্চিমবঙ্গের কোনও জায়গায় কি প্রোটোকল মানা হচ্ছে? সৌজন্যবোধই নেই।’’
এই প্রসঙ্গে উৎসবে উপস্থিত শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘আমি জঙ্গলমহল উৎসবের আয়োজক নয়। আমি আমন্ত্রিত। এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না বলতে পারব না।’’
এই মেলার আয়োজক পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ। পর্ষদের ভাইস চেয়ারম্যান তথা তৃণমূলের ঝাড়গ্রাম জেলা সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, ‘‘বিয়েবাড়িতে কাউকে ডাকা হলে তবেই কেউ যান। এমনি এমনি যান না। সব ওঁদের নাটক। সাংসদ যদি বলে থাকেন উনি ছিলেন বলেই অনুষ্ঠান শুরু হতে দেরি হয়েছে তবে তা ওঁর মূর্খামি। কোনও অনুষ্ঠানই যখন বলা হয়, তখন শুরু হয় না।’’
পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন পর্ষদ এবং পশ্চিমাঞ্চল বিষয়ক দফতরের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ঝাড়গ্রাম শহরের ননীবালা বিদ্যালয়ের মাঠে এ বছর অনুষ্ঠিত হয়েছে সপ্তম জঙ্গলমহল উৎসব। এই উৎসব চলবে আগামী ২৮ তারিখ পর্যন্ত।