নিজস্ব সংবাদদাতা, আলিপুরদুয়ার: বদলি করে দেওয়া হল আলিপুরদুয়ারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পুরণ শর্মাকে। কলকাতার পাস্তুর ইন্সটিটিউটের ডিরেক্টর পদে বসানো হল তাঁকে। পশ্চিম মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক গিরিশ চন্দ্র বেরাকে আলিপুরদুয়ারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবারই করোনা যুদ্ধের মাঝে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন জানান আলিপুরদুয়ারের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পুরণ শর্মা। ৩১ অগস্টের মধ্যে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন গ্রাহ্য না হলে তিনি পদত্যাগ করবেন বলেও জানিয়ে দেন এই স্বাস্থ্যকর্তা। স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন জানানোর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক। তবে এ বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি। ব্যক্তিগত কারণে তিনি স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন করেছেন বলে জানিয়েছেন।
তাহলে কি করোনা যুদ্ধের চাপ! না অন্য কোন কোনও কারণ! কেন তিনি দায়িত্ব থেকে সরে যেতে চাইছেন তা নিয়ে জল্পনা যখন তুঙ্গে তখনই বদলির নির্দেশ এল এই স্বাস্থ্যকর্তার।
করোনা যুদ্ধের মাঝেই জেলার প্রধান করোনা যোদ্ধা এভাবে যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে চলে যাওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করায় মঙ্গলবারই রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে হইচই পড়ে যায়। আলিপুরদুয়ার জেলার জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মিনা অবশ্য বলেন, ‘‘আমি এই বিষয়ে কিছুই জানি না। না জেনে মন্তব্য করাটা ঠিক নয়।’’
স্বাস্থ্য আধিকারিক হিসেবে গোটা রাজ্যে পুরণ শর্মার বেশ সুনাম রয়েছে। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারের মতো জেলাতে বেশ সুনামের সঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন এই আধিকারিক। অত্যন্ত অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই স্বাস্থ্য আধিকারিক কেন হঠাৎ করে স্বেচ্ছা অবসরের আবেদন জানালেন তাই নিয়ে বিভিন্ন মহলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। দার্জিলিং জেলার স্থায়ী বাসিন্দা এই স্বাস্থ্য আধিকারিকের বৃদ্ধ বাবা ও মা রয়েছেন। দীর্ঘদিন থেকেই তিনি বাড়ির বাইরে থেকে সরকারি চাকরি করছেন। নিজের জেলাতে পোস্টিং চেয়েছিলেন বলেও সুত্রের খবর। কিন্তু তা পাননি। তারপরেই বুধবার এল কলকাতায় বদলির খবর। তবে কি আগাম ইঙ্গিত পেয়েই সরে যাওয়ার ভাবনা? সে প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মেলেনি।