দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: সাধারণত বোনাস পাওয়ার পর অন্তত দু-তিনদিন কাজে যান না চা শ্রমিকরা। এবার রীতি ভেঙে বোনাসের পরের দিনই কাজে যোগ দিলেন আলিপুরদুয়ারের কোহিনুর চা বাগানের শ্রমিকরা। কর্মসংস্কৃতির এমন নজিরে রীতিমতো হইচই পড়ে গেছে চা শিল্পমহলে।
পুজোর আগে দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্সিকে সরিয়ে দিয়ে কোহিনূর চা বাগানের দায়িত্ব নেয় কোহিনুর টি কোম্পানি। দায়িত্ব নিয়েই বুধবার শ্রমিকদের হাতে বোনাসের টাকা তুলে দেন তাঁরা। বোনাস হওয়ায় বুধবার রীতিমত উৎসবের মেজাজ ছিল এই চা বাগানে। শ্রমিকদের অভিযোগ আগের এজেন্সি বোনাস এবং পিএফের টাকা দেওয়া নিয়ে গড়িমসি চালাচ্ছিল। প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বকেয়া রেখে শ্রমিকদের প্রতারণা করেছে ওই এজেন্সি। তাই কোহিনুর কর্তৃপক্ষ বাগানের দায়িত্ব নেওয়ায় খুশি হন তাঁরা।
সাধারণত পুজোর বোনাস হাতে পাওয়ার পর ঠিক মতো কাজে যান না অধিকাংশ চা শ্রমিক। পুজোর কেনাকাটা, খানাপিনায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এটাই দস্তুর তরাই ডুয়ার্সের সব চা বাগানে। কোহিনুর চা বাগানের শ্রমিকরা বুধবার বোনাস পেয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ দিনের অভ্যেস ভেঙে বৃহস্পতিবার একশো শতাংশ শ্রমিক কাজেও যোগ দিয়েছেন। এই ঘটনায় খুশি মালিক পক্ষ। শ্রমিকদের কথায়, ‘‘২০০২ সালের পর এবার আবার পুরো বোনাস দিল মালিক। বাগানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা মালিকের পাশে আছি, সে বার্তা দিতেই বাগানের ১২০০ শ্রমিক বৃহস্পতিবার কাজে সামিল হন।’’
চা শ্রমিক কৃষ্ণ মাহালি বলেন, ‘‘আগের এজেন্সি আমাদের প্রাপ্য দেওয়া নিয়ে গড়িমসি চালাচ্ছিল। আমাদের দাবি মেনে মালিকপক্ষ আগের এজেন্সিকে সরিয়ে দেওয়ায় আমরা খুশি। মালিকপক্ষ আমাদের দাবি মেনে পুরো বোনাসও দিয়েছে। আমরা বাগানের উৎপাদন বাড়িয়ে কোহিনুরকে সেরা বাগানে পরিনত করব।’’
বাগানের অন্যতম কর্তা ওমপ্রকাশ উপাধ্যায় বলেন, ‘‘শ্রমিকদের প্রাপ্য মেটানোর দায়বদ্ধতা থেকে পুরো বোনাস দেওয়া ছাড়াও সমস্ত বকেয়াও দ্রুত মিটিয়ে দেব।’’