দ্য ওয়াল ব্যুরো, জলপাইগুড়ি: জরুরিভিত্তিতে কাজ করতে এসে স্থানীয় ক্লাব সদস্যদের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন উত্তরবঙ্গ রাষ্ট্রীয় পরিবহণের বাস চালকেরা। তুমুল উত্তেজনা সৃষ্টি হল জলপাইগুড়ির সরকারি বাস ডিপোতে। ঘটনায় মুখে কুলুপ ডিপো ইনচার্জের।
বুধবার ভোররাতে মালদহ, উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা থেকে ১১ জন বাসচালককে জলপাইগুড়ি নেতাজি পাড়ার এনবিএসটিসির বাস ডিপোতে নিয়ে আসা হয়। এঁরা সবাই জলপাইগুড়ির ওই ডিপোর কর্মী। বাড়ি বিভিন্ন জেলাতে। চাকরি সুত্রে ভাড়া থাকেন জলপাইগুড়ির নেতাজী পাড়া সহ আশেপাশের এলাকায়। লকডাউন শুরু হওয়ার পর যে যাঁর বাড়ি চলে গিয়েছিলেন তাঁরা। বুধবার গাড়ি পাঠিয়ে তাঁদের নিয়ে আসা হয়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বুধবার সকাল থেকে নেতাজি মর্ডান ক্লাবের সদস্যরা ডিপোতে এসে বিক্ষোভ দেখান। পরে বাসচালকদের ঘিরেও শুরু হয় বিক্ষোভ। ক্লাবের সদস্য মিঠু দত্ত বলেন, ‘‘এভাবে এদের নিয়ে এসে ডিউটি করানো যাবে না। সরকারি নিয়ম মেনে তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রেখে সার্টিফিকেট নিয়ে এসে তারপর ডিউটি করাতে হবে।’’
তপন দাস নামে এক বাসচালক বলেন, ‘‘আমি রায়গঞ্জে থাকি। আমাদের ডিপার্টমেন্টের গাড়ি গিয়ে নিয়ে এসেছে। এখন পাড়ার লোক যদি থাকতে না দেয় তবে আমরা কী করব? আমাদের নিরাপত্তা দিয়ে হয় এখানে রাখা হোক। নইলে আমাদের বাড়ি পাঠানো হোক। আমি গ্রিন জোন থেকে এসেছি। ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইন হোমে থাকতে চাই না।’’
ঘটনায় কোনও মন্তব্য করতে চাননি জলপাইগুড়ি ডিপো ইনচার্জ স্বপন সেন। জানা গেছে, আপাতত ওই ১১ জন চালককে ডিপোর কয়েকটি ঘরে রাখা হয়েছে।
এনবিএসটিসির চেয়ারম্যান অপুর্ব সরকার টেলিফোনে বলেন, ‘‘করোনা মোকাবিলায় বিভিন্ন ধরনের সরকারি পরিষেবা দিতে বাসের দরকার হচ্ছে। যেমন বাসে করে ডাক্তার-নার্স এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিযায়ী শ্রমিকদের এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় আনা নেওয়া চলছে। তাই সরকারি বাসের ড্রাইভারদের নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয় ক্লাবের সদস্যরা যদি বাধা দেয় তবে পরিষেবা মুখ থুবড়ে পড়বে। এই বিষয়ে আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে অবশ্যই কথা বলব।’’