দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: সামনেই বিধানসভা ভোট। তার আগেই বিষ্ণুপুর ও সোনামুখী পুরসভার ‘প্রশাসক’ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল দুই বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতাকে। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর দায়িত্বে থাকার পর পুরসভা পরিচালনা থেকে অব্যাহতি পেলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। দায়িত্ব নিচ্ছেন দিব্যেন্দু ব্যানার্জী। অন্যদিকে সোনামুখী পুরসভায় পুর প্রশাসক সুরজিৎ মুখার্জীকে সরিয়ে দায়িত্ব দেওয়া হল তপনজ্যোতি চট্টোপাধ্যায়কে।
সম্প্রতি বাঁকুড়া পুরসভার প্রশাসক পদ থেকে মহাপ্রসাদ সেনগুপ্তকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই জল্পনা চলছিল। কারণ জেলার এই তিন পুরসভার প্রধানদের কাজে মোটেই খুশি নন তৃণমূল নেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার আভাস পাওয়া গিয়েছিল তাঁর সর্বশেষ জেলা সফরে। রবীন্দ্র ভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে তিন পুরপ্রধানকেই 'সতর্ক' করেছিলেন তিনি।
২৪ নভেম্বর ফের দু'দিনের সফরে আসছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথম দিন মুকুটমনিপুরে প্রশাসনিক বৈঠক ও পরের দিন বাঁকুড়ার শুনুকপাহাড়ির হাটে জনসভা করার কথা মুখ্যমন্ত্রীর। তার আগেই এই পরিবর্তন। এক টানা ৩৫ বছর বিষ্ণুপুর পুরসভার দায়িত্ব সামলানোর পর পদচ্যুত শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বলেন, ‘‘নবনিযুক্ত প্রশাসক দিব্যেন্দু ব্যানার্জীকে স্বাগত জানাচ্ছি। মমতা ব্যানার্জি যা করেছেন মেনে নিতে হবে।’’ একই সঙ্গে তিনি দলে ছিলেন, আছেন ও থাকবেন বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন। তাঁকে পদ থেকে সরানোর পিছনে শুভেন্দু অধিকারী ফ্যাক্টর কি কাজ করেছে? এই প্রশ্নের উত্তরে সদ্য দায়িত্ব হারানো শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী বলেন, ‘‘দাদার অনুগামী আমি নই, দাদার সঙ্গে যোগাযোগ নেই, আমি শুধুমাত্র দলের অনুগামী।’’ নবনিযুক্ত প্রশাসক দিব্যেন্দু ব্যানার্জী বলেন, ‘‘দল ও দলনেত্রী দায়িত্ব দিয়েছেন। আমার প্রতি তাঁদের আস্থা যখন রয়েছে তখন তা পূরণে চেষ্টা করব।’’
অন্যদিকে পদচ্যুত সোনামুখী পুরসভার বর্তমান প্রশাসক সুরজিৎ মুখার্জী বলেন, ‘‘সরকার দায়িত্ব দিয়েছিল, সরকারই দায়িত্ব কেড়ে নিয়েছে। কী কারণে এই সিদ্ধান্ত জানি না। সরকারী সিদ্ধান্ত মেনে নিতে আমরা বাধ্য।’’ অন্যদিকে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পৌর প্রশাসক তপনজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দলের দেওয়া দায়িত্ব সাধ্যমতো পালনের চেষ্টা করব।’’