দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: মেমারিতে আইপিএল বেটিং চক্রে জড়িত থাকার অভিযোগে ধৃত ৬ জনের শর্তসাপেক্ষে জামিন মঞ্জুর করল আদালত। বাকি তিনজনের জামিনের আবেদন খারিজ হয়েছে। পুলিশি হেফাজতের মেয়ার শেষ হওয়ার পর সুরঞ্জন বিশ্বাস, কালীচরণ সাউ ও পার্থসারথি বিশ্বাসকে সোমবার সিজেএম আদালতে পেশ করা হয়। একই সঙ্গে একদিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকা পল্লব মজুমদার, বাসুদেব বিশ্বাস, সমরেশ বিশ্বাস, প্রসেনজিৎ মাঝি, সুদীপ মজুমদার ও বিপ্লবচন্দ্র ধরকে এদিন আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতদের হয়ে বেশ কয়েকজন আইনজীবী আদালতে জামিন চেয়ে সওয়াল করেন। আদালতে আইনজীবীরা জানান, তিনজনকে দু’দফায় হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বাকিদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানানো হয়নি। সরকারি আইনজীবী অবশ্য জামিনের বিরোধিতা করেন।
দু’পক্ষের সওয়াল শুনে সপ্তাহে দু’দিন তদন্তকারী অফিসারের কাছে হাজিরার শর্তে পল্লব, বাসুদেব, সমরেশ, প্রসেনজিৎ, সুদীপ ও বিপ্লবের জামিন মঞ্জুর করেন সিজেএম। বাকিদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়ে ৯ অক্টোবর ফের আদালতে পেশের নির্দেশ দেন।
গ্রেফতার হওয়ার দু’দিনের মধ্যে বেটিং চক্রের ৬ জন জামিন পেয়ে যাওয়ায় পুলিশের তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বেটিং চালানোর সময় ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও তাদের কেন হেফাজতে নেওয়া হল না তা নিয়ে আইনজীবী মহলে জোর চর্চা চলছে। ধৃতরা অ্যাপসের মাধ্যমে বেটিং চালায়। কিন্তু, মামলায় তথ্য প্রযুক্তি আইনের ধারা প্রয়োগ করেনি পুলিশ। এ নিয়েও আইনজীবীদের একাংশ প্রশ্ন তুলেছে। তদন্তের ফাঁক ধৃতদের জামিন পেতে সাহায্য করেছে বলে মনে করছেন আইনজীবীরা।
দিনকয়েক আগে বেটিং চালানোর সময় সুরঞ্জন, পার্থসারথি ও কালীচরণকে গ্রেফতার করে মেমারি থানার পুলিশ। ধৃতদের জেরা করে পুলিশ জানতে পারে ৫টি অ্যাপসের মাধ্যমে তারা বেটিং চালাত। বেটিংয়ে কোটি কোটি টাকার লেনদেন চলত। বর্ধমানের দু’জন বেটিংয়ের মূল মাথা। তারাই মোটা টাকার বিনিময়ে বেটিংয়ের জন্য আইডি পাসওয়ার্ড দেয়। তারা অবশ্য এখনও ধরা পড়েনি। তিনজনকে হেফাজতে নিয়ে বাকি ৬ জনের বেটিংয়ে জড়িত থাকার বিষয়ে জানতে পারে পুলিশ। শনিবার আইপিএলের খেলা চলাকালীন মেমারির একটি পরিত্যক্ত সিনেমাহল থেকে পুলিস বাকি ৬ জনকে গ্রেফতার করে।