
শেষ আপডেট: 6 September 2023 05:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের চেষ্টা চলছে রাজ্যজুড়ে। নতুন নতুন মেডিক্যাল কলেজ তৈরি হচ্ছে, বাড়ছে সিসিইউ, এইচডিইউ বেডের সংখ্যা। বড় হাসপাতাল-নার্সিংহোমগুলিতে রোগী 'রেফার' ঠেকাতে কড়া ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে। এবার চিকিৎসকদের 'পারফরম্যান্স' বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর (State Health Department)। স্বাস্থ্যভবন জানাচ্ছে, সারাদিন যত রোগী দেখা দরকার তার থেকে অনেক কম রোগী দেখছেন ডাক্তাররা, মাসে অপারেশনের সংখ্যাও কম। একজন চিকিৎসককে মাসে কত রোগী দেখতে হবে, একজন সার্জনকে কম করেও কটা অপারেশন করতে হবে সে সংখ্যা এবার বেঁধে দিল রাজ্য সরকার।
গত ৩১ অগস্ট সমস্ত জেলার জেলাশাসক, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ও মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়ে এই নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যসচিব। চিঠিতে বলা হয়, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের পারফরম্যান্স বাড়াতে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নিতেই হবে। স্বাস্থ্য দফতর জানিয়েছে, রাজ্যের ১৯টি মেডিক্যাল কলেজ, ১১টি জেলা হাসপাতাল, ৩১টি মহকুমা হাসপাতাল, ২৩টি স্টেট জেনারেল হাসপাতাল এবং ১১টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে অপারেশনের সংখ্যা অত্যন্ত হতাশাজনক। ১৪টি জেলা হাসপাতাল, ৩৪টি মহকুমা হাসপাতাল, ২০টি মেডিক্যাল কলেজ, ২৪টি স্টেট জেনারেল হাসপাতাল ও ১১টি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের আউটডোরে চিকিৎসকদের রোগী দেখার সংখ্যাও অনেক কম। এই পরিসংখ্যাণ সামনে আসার পরেই নড়েচড়ে বসে স্বাস্থ্যভবন। পরিষেবার মান উন্নত করতে নতুন নির্দেশিকা জারি করা হয়।
তবে চিকিৎসকদের সংগঠনের বক্তব্য, রোগী দেখার হার রোজ সমান হয় না। কোনও কোনও জটিল অপারেশন করতে অনেক সময় লাগে। তাই পরিসংখ্যানের বিচার করা এক্ষেত্রে সঠিক নয়।
রাজ্যে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার। নতুন দুটি মেডিক্যাল কলেজ ও তৈরি হচ্ছে বাংলায়। একটি মেডিক্যাল কলেজ হবে কলকাতা সংলগ্ন সল্টলেক সেক্টর ফাইভে, অন্যটি নদিয়ার চাকদায়। দু’টি মেডিক্যাল কলেজ থেকেই এমএমবিএস কোর্স করা যাবে। দুটি কলেজেই প্রস্তাবিত আসন সংখ্যা ১৫০। অর্থাৎ সব মিলিয়ে রাজ্যে যে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে তাতে আরও ৩০০টি আসন বাড়তে চলেছে।