Exclusive: অপেক্ষায় বাংলাদেশ, পিতৃভূমিতে যাচ্ছে মহাপ্রভুর পাদুকা
সুদীপ্তা মিত্র মৈত্র: তখন তিনি বিশ্বম্ভর। লক্ষ্মীপ্রিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে সবে। বিয়ের পরপরই দেখতে গেলেন পিতৃভূমি। তৎকালীন শ্রীহট্টের ঢাকা দক্ষিণ গ্রাম। পিতামহ উপেন্দ্র মিশ্র, বাবা জগন্নাথ মিশ্রের বাস যে ছিল সে গ্রামেই। জীবিকার তাগিদেই সেখান
শেষ আপডেট: 11 June 2018 11:42
সুদীপ্তা মিত্র মৈত্র: তখন তিনি বিশ্বম্ভর। লক্ষ্মীপ্রিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে সবে। বিয়ের পরপরই দেখতে গেলেন পিতৃভূমি। তৎকালীন শ্রীহট্টের ঢাকা দক্ষিণ গ্রাম। পিতামহ উপেন্দ্র মিশ্র, বাবা জগন্নাথ মিশ্রের বাস যে ছিল সে গ্রামেই। জীবিকার তাগিদেই সেখান থেকে নবদ্বীপে আসতেন জগন্নাথ। পরে স্ত্রী শচিদেবীকে নিয়ে পাকাপাকি ভাবে থেকে গেলেন এখানেই।
কথিত, বিশ্বম্ভর যখন দেশের বাড়িতে পা রাখলেন তখন চণ্ডী লিখছেন পিতামহ উপেন্দ্র। তাঁর কাছ থেকে সে দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিলেন তিনি। খুব অল্প সময়ে সে কাজ শেষ করে চমকে দিয়েছিলেন পিতামহকে। সন্ন্যাস নেওয়ার পর আসমুদ্র হিমাচল ঘুরলেও শ্রীচৈতন্যদেব পিতৃভূমে আর গেছিলেন কি না তা নিয়ে মতান্তর রয়েছে।
[caption id="attachment_10838" align="alignleft" width="300"]
মহাপ্রভুর এই পাদুকাই যাচ্ছে বাংলাদেশে[/caption]
মঙ্গলবার নবদ্বীপ থেকে শ্রীচৈতন্যদেবের পাদুকা নিয়ে যাওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে। সকালে নবদ্বীপ ধামের গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দির থেকে বিশেষ নিরাপত্তায় দমদম বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হবে পাদুকা। দুপুরের বিমানে নিয়ে যাওয়া হবে বাংলাদেশের চট্টগ্রামে। সেখানে শ্রীশ্রীহরিভক্তি প্রচার সভার উদ্যোগে যামিনীমোহন সেন হলে চারদিন ধরে চলবে বিশেষ পুজোপাঠ ও নামসংকীর্তন। সেখানেই বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ শ্রীচৈতন্যদেবের পাদুকা দর্শন করবেন। শুক্রবার আবার নবদ্বীপে ফিরিয়ে আনা হবে মহাপ্রভুর পাদুকা।
মন্দিরের সেবাইত সুদিন গোস্বামী বলেন, “এই প্রথম প্রভুর চরণ পাদুকা বাংলাদেশে যাচ্ছে। দু দেশের মৈত্রী ভাবনা আরও মজবুত করতেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।”
লেখক ও চৈতন্য গবেষক চৈতন্যময় নন্দ জানান, শ্রীহট্ট থেকে নবদ্বীপে ফিরে বিশ্বম্ভর জানতে পেরেছিলেন স্ত্রী লক্ষ্মীপ্রিয়ার মৃত্যু হয়েছে সর্পদংশনে। এরপরেই বিষ্ণুপ্রিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। বয়স তখন ১৮। ৬ বছরের বিবাহিত জীবনের অন্তে ২৪ বছর বয়সে সন্ন্যাস নিয়েছিলেন বিশ্বম্ভর। সংসার ত্যাগের পর একবার মায়ের সঙ্গে দেখা করতে ঘরে ফিরে বিষ্ণুপ্রিয়ার জন্য রেখে গিয়েছিলেন নিজের পাদুকা। বিষ্ণুপ্রিয়া সেবিত সেই পাদুকাই রাখা নবদ্বীপের গৌরাঙ্গ মহাপ্রভুর মন্দিরে।
তিনি জানান, বরাহনগরের পাটবাড়িতে, ভাগবতাচার্যের সঙ্গে দেখা করতে এসেছিলেন শ্রীচৈতন্যদেব। সেখানে রয়েছে তাঁর একটি পাদুকা। রূপ সনাতনের সঙ্গে দেখা হয়েছিল মালদার রামকেলিতে। সেখানেও একটি পাদুকা রয়েছে তাঁর। এ ছাড়া পুরীর গম্ভীরাতেও রয়েছে শ্রীচৈতন্যদেবের একটি পাদুকা। চৈতন্যময়বাবুর কথায়, “সময়ের থেকে অনেকখানি এগিয়ে থাকা শ্রীচৈতন্যদেবের চিন্তা-চেতনা আজকের হানাহানির পৃথিবীতে আরও বেশি করে প্রাসঙ্গিক। ধর্মের গণ্ডিতে, দেশের সীমানায় কখনওই বেঁধে রাখা যায়নি তাঁকে। তাঁর পাদুকাকে ঘিরে বাংলাদেশের উন্মাদনা সেটাই সামনে আনল নতুন করে।”