
শেষ আপডেট: 24 June 2023 09:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সোনারপুরে স্ত্রীকে খুনের ঘটনায় বড় তথ্য উঠে এল সিআইডির তদন্তকারী অফিসারদের হাতে। জানা গিয়েছে, ঋণের দায়ে জর্জরিত স্বামী স্ত্রীকে দেহ ব্যবসায় নামাতে চেয়েছিল। স্ত্রী তাতে রাজি না হওয়াতেই খুন করে স্বামী, এমনই অভিযোগ। তিনবছর পর, শুক্রবার সেই দেহ বাড়ির পাশের সেপটিক ট্যাঙ্ক থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত স্বামীকেও।
সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত স্বামী ভোম্বল মণ্ডল লাগাতার জেরার মুখে নিজের দোষ স্বীকার করেছে। একইসঙ্গে সে জানিয়েছে, টাকার অভাবে স্ত্রীকে দেহ ব্যবসায় নামাতে চেয়েছিল। এমনিতে তার অন্য কোনও উপার্জন ছিল না। তাই তিনজন ছেলের থেকে টাকাও নিয়েছিল। এরপর একদিন সেই তাদের তিনজন বাড়িতে আসে। কিন্তু স্বামীর কুপ্রস্তাবে রাজি হননি স্ত্রী।
সেই নিয়েই শুরু হয় অশান্তি। অন্যদিকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধি না হওয়ায় টাকা ফেরত চায় ওই তিনজনও। কিন্তু তা ফেরত দিতে পারেনি ভোম্বল। এরপরই রাগের মাথায় স্ত্রীকে মারধর শুরু করে অভিযুক্ত যুবক। তারপর বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে মেরে ফেলে। শেষে দেহ লোপাটের জন্য বাড়ির এককোণে থাকা একটি সেপটিক ট্যাঙ্কের ভিতর ওই দেহ নিয়ে গিয়ে ফেলে দেয়।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২০ সালের মার্চ মাস থেকেই নিঁখোজ হন টুম্পা মণ্ডল নামের ওই মহিলা। তাঁর পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামী ভোম্বল মণ্ডলকে তখন গ্রেফতার করে সোনারপুর থানার পুলিশ। কিন্তু সে সময় তার বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ প্রমাণ না হওয়ায় আদালতে জামিন পেয়ে যায় অভিযুক্ত। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে ফের ওই মামলার তদন্ত শুরু করে সিআইডি। এরপরই লাগাতার জেরা ও তদন্তে রহস্যভেদ হয়।
সোনারপুরে স্ত্রীকে খুন করে সেপটিক ট্যাঙ্কে ফেলেছিল স্বামী! তিনবছর পর উদ্ধার দেহ