
শেষ আপডেট: 9 February 2023 13:51
প্লাস্টিক কুড়িয়ে (Plastic Collector) এনে সেগুলি কারখানায় বিক্রি করে কোনওরকমে সংসার চালান হতদরিদ্র দিনমজুর মহবুবুল শেখ। শত কষ্টেও কিন্তু শিক্ষার আলো থেকে ছেলেকে বঞ্চিত রাখেননি। সেই ছেলেই WBPS পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে যোগ দিতে চললেন ডেপুটি পুলিশ সুপার (DSP) পদমর্যাদার অফিসার হিসেবে। মহবুবুল শেখের ভাঙা ঘরে এখন আলোর রোশনাই।
একটা সময় বোমা, গুলি, সংঘর্ষের আঁতুড়ঘড় হিসেবে পরিচিত ছিল কালিয়াচক থানার বামনগ্রাম। এখনও যে বদনাম পুরোপুরি ঘুচেছে তেমনটা নয়। সেই গ্রামে বসেই দিনবদলের স্বপ্ন দেখা যুবক নিশাদ খালেদ বলছেন, চেষ্টাটাই আসল, একাগ্রতা থাকলে স্বপ্নপূরণ আসলে সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তাঁর এমন সাফল্যে পরিবারের পাশাপাশি আনন্দে উচ্ছ্বসিত গোটা গ্রাম। এই প্রথম কালিয়াচক (Kaliachak) থানার মোসিমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বামনগ্রাম থেকে কোন এক যুবক ডেপুটি পুলিশ সুপারের পদমর্যাদার আধিকারিক হতে চলেছেন ।
নিসাদ খালেক ডিএসপি হবেন, জানতে পেরে বাবা মহবুবুল শেখ, মা উনজেলা বিবির আনন্দের বাঁধ ভেঙেছে। ভাই-বোনেরা উচ্ছ্বসিত। নুন আনতে পান্তা ফুরোয়! তাতে কী! ছেলের সাফল্যের পাড়া-প্রতিবেশীদের মিষ্টি মুখ করাতে কিন্তু ভুলে যাননি হত-দরিদ্র দম্পতি।
ছোট থেকেই আল আমিন মিশনের ছাত্র ছিলেন নিশাদ খালেদ। তিনি জানান, মিশনের সহযোগিতাতেই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সুযোগ পান। ২০২০ সালে ডাব্লুবিসিএস লিখিত পরীক্ষায় সফল হন। ‘বি’ গ্রুপে তাঁর নাম উঠে আসে পাঁচ নম্বরে। তারপরে নিশাদ পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বিডিও হলেন মালদহর পরিযায়ী শ্রমিকের ছেলে, WBCS পরীক্ষায় ২৭ ব়্যাঙ্ক
তাঁর কথায়, ‘‘আমি ছোট থেকেই দেখেছি একটা সময় গ্রামের কী অবস্থা ছিল। নিত্যই বোমা পড়ছে, গুলি চলছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ তো লেগেই থাকতো। কতজনের যে প্রাণ গিয়েছে। ছোট থেকেই স্বপ্নে বিভোর ছিলাম, কীভাবে এই অপরাধ ঠেকানো যায় সেই স্বপ্নে। আমার জেদ ছিল পুলিশ অফিসার হবই । অবশেষে সবার আশীর্বাদ আর সহযোগিতায় আমি ডেপুটি পুলিশ সুপার পদমর্যাদা অফিসার হতে পেরেছি।’’
খুব শীঘ্রই ট্রেনিংয়ের জন্য ডাক পড়বে নিসাদের। এখন তারই জন্য চলছে মানসিক প্রস্তুতি। আর তাঁকে পুলিশ অফিসার হিসেবে দেখার জন্য গ্রামের মানুষের দিনক্ষণ গোনাও শুরু হয়ে গেছে।