দ্য ওয়াল ব্যুরো,পশ্চিম মেদিনীপুর: চেয়েও মেলেনি অতিরিক্ত টাকা৷ সেই অপরাধে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে বাবাকে খুন করলো ছেলে। মা এবং ছেলে দুজনকে সে রাতেই গ্রেফতার করে স্থানীয় পুলিশ। ঘটনার পর পুলিশের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেও নিয়েছে অভিযুক্ত ছেলে।
বুধবার ৯ই সেপ্টেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার পিংলা ব্লকের ২ নং জামনা অঞ্চলের সাতই গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। মৃতের নাম দেবেন ব্যাংরা। মৃতের ছেলে শামু ব্যাংরা ও মা লক্ষী ব্যাংরাকে বুধবার রাতেই খুনের অপরাধে গ্রেফতার করেছে পিংলা থানার পুলিশ।
টাকার ভাগাভাগি নিয়ে পারিবারিক মনোমালিন্য থেকেই ঘটনার সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে বুধবার দিনের বেলায় পিংলার একটি ব্যাংক থেকে এক হাজার টাকা তুলে নিয়ে যান দেবেন ব্যাংরা। তারপর রাত্রে সেই টাকা থেকে ছেলেকে ২০ টাকা, আর বৌকে দেয় ৫০ টাকা ভাগ করে দেন। এত কম টাকা দেওয়াতে মা এবং ছেলে দুজনেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। শুরু হয় কথা কাটাকাটি।
পুলিশসূত্রে বলা হয়েছে,পরিবারের তিন জনই সেসময় নেশাগ্রস্ত ছিলেন। অশান্তি চলাকালীন দেবেনবাবুর স্ত্রী ও ছেলে দেবেনবাবুর কাছ থেকে আরও টাকা ছিনিয়ে নিতে যান। ধস্তাধস্তিতে ছিটকে পড়েন দেবেনবাবু। সেইসময় বাড়ির দেওয়ালে ধাক্কা লেগে মাথা ফেটে যায় তাঁর। নেশার ঘোরে উঠে এসে শামু সেই অবস্থাতেই আহত বাবার গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধরে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে নিজের বাড়িতেই মারা যান দেবেন ব্যাংরা।
এই ঘটনার পর এলাকাবাসীরাই সচেষ্ট হয়ে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়েই তড়িঘড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। দেবেনবাবুকে খুন করার অপরাধে বুধবার রাতেই ছেলে শামু ব্যাংরা এবং স্ত্রী লক্ষী ব্যাংরাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। দেহ বৃহস্পতিবার ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে পিংলা থানার পুলিশসূত্রে জানানো হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসা বাদের পর আজ ধৃত দুজনকে মেদিনীপুর আদালতে তোলা হবে। তবে এই ঘটনায় ছেলে শামু পুলিশের সামনে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিলেও এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে মুখ খোলেননি মা লক্ষী ব্যাংরা। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান যে তিনি ওইসময় রান্না ঘরে ছিলেন। ঘটনা কী ঘটেছে তা তিনি কিছুই জানেন না।
বেশি কথা বলতে রাজি হননি এলাকার লোকজনও। সংবাদমাধ্যমের তরফে তাদের প্রশ্ন করা হলে তারা জানান, "গতকাল রাতে একটা মার্ডার হয়েছে আমরা শুনেছি। পুলিশ ওদের ধরে নিয়ে গিয়েছে।"