নিলয় দাস
শীতের বিদায় বেলা সারপ্রাইজ স্নো ফল। মঙ্গলবার বেলা সওয়া ১১টা নাগাদ দার্জিলিং পাহাড়ে হঠাৎ তুষারপাত শুরু হয়। আকাশ থেকে সাদা তুলোর মতো পড়তে থাকা স্নো-এর আনন্দে মেতে ওঠে গোটা পাহাড়। মুহূর্তে সাদা চাদরের আস্তরণে ঢাকা পড়ে যায় রাস্তাঘাট-বাড়ির ছাদ থেকে পাইন-ঝাউ সহ পাহাড়ি গাছগুলো। টানা দু'ঘণ্টা ধরে চলে তুষারপাত।
সান্দাকফু-কার্শিয়ং থেকে দার্জিলিং শহরে যেন শুরু হয় অকাল খ্রিস্টমাসের আনন্দ। পর্যটকেরা তো বটেই স্থানীয় বাসিন্দারাও ঝরে পড়তে থাকা ওই বরফ দু'হাতের মুঠোয় আঁকড়ে ধরে রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এক-দু'বছর নয়, টানা এক দশকের অপেক্ষার পরে গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ থেকে এ পর্যন্ত তিন দফায় স্নো ফল হল পাহাড়ে।
জানুয়ারির শেষ সপ্তাহে অবশ্য পাহাড়ে পর্যটকদের আনাগোনা বিশেষ থাকে না।
কার্শিয়ঙের প্রিকশা শর্মা হোমস্টে ব্যবসা চালান তাঁর বাড়িতে। প্রিকশার কথায়, “অভাবনীয় ব্যাপার। ভোর থেকে ঠান্ডাটা খুব বেশি ছিল। আচমকা দুপুরে দেখি স্নো ফল শুরু হয়েছে। সব কাজ ফেলে রেখে রাস্তায় নেমে পড়ি আমরা। তবে পর্যটক বিশেষ একটা নেই। পর্যটকরা থাকলে এই আনন্দ দ্বিগুণ হতো।“
দেখুন ভিডিও।
https://www.youtube.com/watch?v=4V1uBMCLPAA&feature=youtu.be
এ দিন দার্জিলিঙে থেকে তুষারপাত যারা উপভোগ করলেন, সেই সমস্ত পর্যটকেরা যেন নিজেদের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিলেন না। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা রাজেশ কুমার বলেন, জানুয়ারির শেষে স্নো ফল হতে পারে তা ভাবিনি। পাহাড় দেখার পাশাপাশি এই তুষারপাত যেন একটা বাড়তি উপহার। এটা আমি আমার হৃদয়ের অ্যালবামে যত্ন করে রেখে দেব।
আরও ভিডিও।
https://www.facebook.com/ConstantiaCottage/videos/363899391097810/
এ দিন দার্জিলিঙের তাপমাত্রা ছিল ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। দার্জিলিঙের পাশাপাশি সমতলের বেশ কিছু এলাকায় মঙ্গলবার ভোরে বৃষ্টিপাত হয়। দিনভর কনকনে ঠান্ডা পড়ে তরাই-ডুয়ার্সে।