
শেষ আপডেট: 6 July 2023 07:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১১ সালে সরকার বদলের পর পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর, গড়বেতার মাটি থেকে নরকঙ্কাল উদ্ধারের ঘটনা হইচই ফেলে দিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। তারই অন্যতম বেনাচাপড়া কঙ্কাল কাণ্ড। ওই ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে জেলে যেতে হয়েছিল রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সুশান্ত ঘোষ বেশ কিছু সিপিএম নেতাকে। প্রায় এক যুগের ব্যবধানে এবারে পঞ্চায়েত ভোটে কেশপুরের প্রচারের শিরোনামে উঠে এল, সেই কঙ্কাল কাণ্ডই!
পঞ্চায়েত সমিতি বা গ্রাম পঞ্চায়েত স্তরে ভোটের আগেই একাধিক আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূল জয়ী হলেও লড়াই হচ্ছে কেশপুর জেলা পরিষদের তিনটি আসনেই। তারই অন্যতম, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদের ৫৯ নং আসন। কেশপুরের এই আসনে শাসকদলের প্রার্থী বেনাচাপড়া কঙ্কাল কাণ্ডের মূল অভিযোগকারী শ্যামল আচার্য। বিপরীতে লড়ছেন এই কঙ্কাল কাণ্ডেরই অন্যতম মূল অভিযুক্ত সিপিএম প্রার্থী নিয়ামত হোসেন। প্রচারে বেরিয়ে শ্যামল যেমন এই কঙ্কাল কাণ্ডকে হাতিয়ার করে সিপিএমের সেদিনের ‘সন্ত্রাসে’র বিরুদ্ধে সরব, তেমনই পাল্টা হিসেবে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো’র অভিযোগের কথা তুলে ধরছেন সিপিএম প্রার্থী। ফলে কেশপুর সহ সমগ্র জেলার মানুষের বাড়তি নজর রয়েছে এই আসনটির দিকে।
২০১১ সালের ৪ জুন গড়বেতা ও কেশপুর লাগোয়া বেনাচাপড়া দাসেরবাঁধে মাটি খুঁড়ে বের হয় নরকঙ্কাল। তৃণমূল অভিযোগ তুলেছিল, ২০০২ সালের ২২ সেপ্টেম্বর তৃণমুল নেতা অজয় আচার্য সহ ৭ জন তৃণমূল কর্মীকে মেরে পুঁতে দিয়েছিল সিপিআইএম, সেই কঙ্কালই বেরিয়েছে বেনাচাপড়া থেকে। ওই ঘটনায় রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সিপিএমের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা সম্পাদক সুশান্ত ঘোষ সহ ৪৫ জনের বিরুদ্ধে আনন্দপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন নিহত অজয় আচার্যর ছেলে শ্যামল। তদন্তভার যায় সিআইডি-র হাতে। সেই মামলায় সুশান্ত ঘোষ সহ একাধিক সিপিএম নেতাকে গ্রেফতার করেছিল রাজ্যের গোয়েন্দারা। দীর্ঘদিন কারাবাসের পর সকলেই এখন জামিনে মুক্ত।
ভোট প্রচারে নিজের ‘জেল খাটার’ প্রসঙ্গটি হাতিয়ার করছেন সিপিএম প্রার্থী নিয়ামত। তাঁর দাবি, “কেশপুরের মানুষ আমাকে চেনেন। তাঁরা জানেন, তৃণমূল আমাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে ভরেছিল। তাই খুব বেশি প্রচারের দরকার নেই। মানুষ ভোট দিতে পারলে আমার জয় কেউ আটকাতে পারবে না।” পাল্টা হিসেবে তৃণমূল প্রার্থী তথা বেনাচাপড়া কঙ্কাল কাণ্ডের অভিযোগকারী শ্যামল বলছেন, “বাবাকে খুন করার পাশাপাশি দেহটাও লোপাট করে দিয়েছিল। সিপিএম এতটাই নৃশংস। প্রচারে বেরিয়ে মানুষকে সেটাই বলছি।”
কঙ্কাল কাণ্ডকে হাতিয়ার করে দু’তরফই নিজের জয়ের বিষয়ে ১৬ আনা নিশ্চিত। তবে শেষ পর্যন্ত কার পক্ষে যাবে কেশপুরের এই আসনের ফল, সেটাই দেখার।
আরও পড়ুন: ‘জিতেই বা কী হবে, সেই তো তৃণমূলেই নাম লেখাতে হবে’