
শেষ আপডেট: 12 April 2023 10:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এ যেন ঠিক সিনেমার গল্প। আট বছর আগে ভাইকে হারিয়েছিলেন পুরুলিয়ার বাসন্তী শবর। একদিন সকালে মাঠে কাজ করতে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে দেখেন বাড়িতে ভাই নেই। তারপর থেকে আর বাড়ি ফেরেননি ভাই মারুলি শবর। এমনকি মৃত্যু শয্যায় মা ভাইয়ের কথা জানতে চাইলে, বহু কষ্টে দিদি বলেছিলেন, 'ভাই মারা গেছে'। অবশেষে দীর্ঘ আট বছর পর সেই ভাইয়ের খোঁজ (found) পেলেন দিদি (sister)।
এদিকে আট বছর আগে ত্রিপুরার কৈলাশহরে ভবঘুরেকে দেখেছিলেন গ্রামপঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান আব্দুল হাদী। কৈলাশহর ইরানি থানাধীন খাওরাবিল এলাকায় ঘুরে বেড়াতেন এই ভবঘুরে। বাজারে কাঁচা মাছ, মাংসের ছাঁট খেতেন। সকলে তাঁকে মাংস খেঁকো মানুষ বলতেন। বেশ কিছুদিন এভাবে কাটে। তারপর সেই ভবঘুরেকে নিজের বাড়ি নিয়ে যান আব্দুল হাদী। অনেক চেষ্টা করেও সেই ভবঘুরের থেকে নাম ঠিকানা জানতে পারেননি তারা। মানবিকতার খাতিরে দীর্ঘ আট বছর ধরে হাদী সাহেবের বাড়িতেই ছিলেন সেই ভবঘুরে।
এই ভবঘুরেই মারুলি শবর। পুরলিয়ার আদিবাসী সম্প্রদায়ের বাসন্তী শবরের ভাই। দুই রাজ্যের যোগসূত্র হয় বাংলা ও ত্রিপুরার হ্যাম রেডিওর মাধ্যমে। ওয়েস্টবেঙ্গল রেডিয়ো ক্লাবের সম্পাদক, হ্যাম রেডিয়োর অম্বরীশ নাগ বিশ্বাস জানান, আব্দুল হাদীর সঙ্গে কথা বলে পুরুলিয়ার আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বহু খোঁজের পর অবশেষে তাঁর দিদির খোঁজ মেলে।
জানা গেছে, তিন বোনের পর এক ভাই মারুলি৷ স্নেহ আদরেই বড় হয়েছেন। তাঁর বাবা মারা যাওয়ার পরই চুপচাপ থাকতেন। হঠাৎ একদিন দেখেন বাড়িতে ভাই নেই। এত বছর ধরে বহু খোঁজাখুঁজির পরও মেলেনি ভাইয়ের হদিশ। ভেবেছিলেন, ভাই আর নেই।
সূত্রের খবর, ভাইয়ের খোঁজ পেয়ে আনন্দে আত্মহারা দিদি। শীঘ্রই ত্রিপুরা যাবেন ভাইকে আনতে। তবে গল্পের টুইস্ট তো শেষেই থাকে। বাসন্তী মারুলির গল্পের টুইস্টও শেষেই। আব্দুল হাদী গ্রামের প্রভাবশালী ব্যক্তি। এমনকি দশটি হাতির মালিক! হাদী সাহেব জানিয়েছেন, শবর ছেলেটিকে বাড়িঘর, জমি, সম্পত্তি সবই দান করতে চান যদি মারুলির পরিবার ত্রিপুরায় গিয়ে থাকেন। তবে আপাতত সম্পত্তি নিয়ে মাথাব্যথা নেই দিদির। আপাতত অপেক্ষার অবসান। এখন ত্রিপুরা থেকে ভাইকে নিয়ে আসতে চান বাসন্তী শবর।
কলকাতার নামী বেসরকারি হাসপাতালের গাফিলতিতে রোগীমৃত্যু, ৬০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ