দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার হুগলি রিভারব্রিজ কমিশন থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন সেচ ও পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু তার ৪৮ ঘণ্টা আগে সোমবারই পাইলট কার তিনি ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে তাঁর দফতর সূত্রে খবর।
শুভেন্দুবাবু জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান। তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে স্পর্শকাতরতা রয়েছে। ফলে পাইলট কার ছেড়ে দেওয়াটা কম তাৎপর্যের নয়। তবে পাইলট কার ছাড়লেও বাকি নিরাপত্তা সম্ভবত তিনি ছাড়েননি।
এ প্রসঙ্গে জানিয়ে রাখা ভাল, বাংলায় তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই পুলিশি নিরাপত্তা পান শুভেন্দুবাবু। কারণ, নন্দীগ্রামে আন্দোলনের পর থেকেই তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য প্রশাসনের আশঙ্কা ছিল। তা ছাড়া ২০০৭ সালে এ ব্যাপারে হাইকোর্টের একটি নির্দেশও ছিল। পরবর্তীকালে জঙ্গলমহলে সংগঠন বাড়ানোর জন্য শুভেন্দুর উপরে ভরসা করতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে মাওবাদী হানার আশঙ্কা ছিল অতিমাত্রায়। শুভেন্দুর ঘনিষ্ঠ সূত্রে আগেও জানা গিয়েছে, সে সময়ে শুভেন্দুর নিরাপত্তা নিয়ে তাঁকে ফোন করে সতর্ক করতেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য।
আবার ২০১২ সালে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচিত হওয়ার আগে তৎকালীন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী তথা ইউপিএ সরকারের নম্বর টু ব্যক্তি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে শুভেন্দুর নিরাপত্তা বাড়ানোর ব্যাপারে দিল্লিও রাজ্যকে পরামর্শ দিয়েছিল। যে হেতু শুভেন্দু জঙ্গলমহলে সাংগঠনিক কাজে অতিশয় সক্রিয় ছিলেন সেই কারণে প্রণববাবুও ব্যক্তিগতভাবে শুভেন্দুকে বার বার সতর্ক করেছিলেন।
রাজ্য রাজনীতিতে শুভেন্দু অধিকারীর এক অনুগামী এদিন বলেন, অনেকে বলছিলেন, পদ, লালবাতি ছেড়ে কথা বলুক। হয়তো সেটাই শুরু করে দিয়েছেন দাদা।
এখন কৌতূহলের বিষয় হল, মন্ত্রিসভা থেকে কবে ইস্তফা দেবেন শুভেন্দু?
এ ব্যাপারে শুভেন্দুবাবুকে তামাম সংবাদমাধ্যম প্রশ্ন করে চলেছেন। কিন্তু বরাবরই সংবাদমাধ্যম থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন শাসক দলের এই দাপুটে নেতা। এ ব্যাপারেও তিনি গোপনীয়তা রাখছেন। এমনকি হুগলি রিভারব্রিজ কমিশনের চেয়ারম্যান পদ থেকে তাঁর ইস্তফার চব্বিশ ঘণ্টা পর বিষয়টি জানাজানি হয়েছে। সরকার সেই পদে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়োগের পর পরিষ্কার হয়েছে যে শুভেন্দু পদত্যাগ করেছেন। অনেকের মতে, কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে, এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র।