
শেষ আপডেট: 19 April 2023 07:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ট্রেন দুর্ঘটনায় পা কাটা গিয়েছিল। কিন্তু থেমে থাকেননি। মনের জোর আর বাঁচার ইচ্ছে তাঁকে আবার জীবনের স্রোতে ফিরিয়েছে। নকল এক পায়ে ভর করেই দৌড়ে চলেছেন একগ্রাম থেকে আরেক গ্রাম। কাঁথি ৩ ব্লকের দহলাউদা গ্রামের সমীর হালদারের জীবন যেন এক প্রতিকূলতাকে জয় (win) করার কাহিনী। পেশায় মাছ বিক্রেতা। সকাল থেকে দুপুর রাস্তায় ঘুরে ঘুরে মাছ বিক্রি করাই তাঁর কাজ। তাই তাঁর জীবনী নিয়ে তৈরি হচ্ছে তথ্যচিত্র।
সমীরের ব্যবসার ভরসা বলতে মৎস্যদফতরের অধীনে 'বঙ্গ মৎস্য যোজনা’ প্রকল্পে পাওয়া তিনচাকার ছোট লরি। একটা বরফ রাখার বাক্স, আর মনের জোর। তাঁর জীবনযুদ্ধের লড়াইকে সামনে রেখে বেকার যুবক যুবতীদের স্বনির্ভরতার দিশা দেখাতে চাইছে মৎস্যদফতর। তাই মৎস্যদফতরের তরফ থেকেই একটি তথ্যচিত্র (documentary) তৈরি করা হয়েছে।
ছ’বছর আগে ওড়িশাতে কাজ করতে গিয়েছিলেন সমীর। সেখানেই এক দুর্ঘটনায় পড়ে তাঁর বাঁ-পা বাদ যায়। লাগাতে হয় প্লাস্টিকের নকল পা (fake leg)। যদিও প্রথম প্রথম ওই অবস্থায় কাজ করতে পারতেন না। কারণ হাঁটলেই পা দিয়ে রক্ত পড়ত। অভাবের সংসার। দিন গুজরান করার জন্য উপার্জন লাগে। কিছু দিন পর সাইকেল নিয়েই মাছ বিক্রি করতে বেরিয়েছিলেন বছর পয়ত্রিশের এই যুবক। কিন্তু কষ্ট হত ৷ মৎস্য দফতরের কাছে আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে সমীরকে একটি তিন চাকার গাড়ি আর বরফের বাক্স দিয়েছিল মৎস্যদফতর। ব্যাস। আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।
সমীর জানান, ডানহাত ও ডান পায়ে গাড়ির স্টিয়ারিং পরিচালনা করেন তিনি। পাইকারি দরে কাঁথির জুনপুট, শৌলা কিংবা দীঘা মৎস্য আহরণ কেন্দ্র থেকে দেড় কুইন্টাল করে সামুদ্রিক মাছ আনেন। তারপর ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন। সুদিন ফিরেছে সমীরের৷ জীবন তাঁকে আর ফেরায়নি।
সমীরের লড়াইয়ে প্রেরণা জুগিয়েছেন তাঁর স্ত্রী সুষমা হালদার। তিনি বলেন, 'শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে তুচ্ছ করে সকলের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি সবসময় ওঁর পাশে রয়েছি।' প্রতিকূলতা অতিক্রম করে সমীরের জীবনে ফেরার কাহিনী অনেক কর্মহীন মানুষকে মনের জোর দেবে। সেকারণেই তাঁর উপর তথ্যচিত্র বানানো হয়েছে। এমনটাই মত জেলা সহ মৎস্য অধিকর্তা জয়ন্তকুমার প্রধানের।
মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীর নিথর দেহ উদ্ধার পুকুর পাড়ে, মর্মান্তিক কাণ্ড রঘুনাথগঞ্জে