দ্য ওয়াল ব্যুরো: মানুষের থেকে মানুষে ছড়াচ্ছে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ (Human to Human transmission)। বিজ্ঞানীরা বলছেন এয়ার ড্রপলেটে বাহিত হয়েই একজনের থেকে অন্যজনের শরীরে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে ভাইরাসের সংক্রমণ। আক্রান্ত রোগীদের ধারেকাছে যাওয়াও তাই বিপজ্জনক। চিকিৎসা করতে গিয়ে হাসপাতালে ডাক্তার-স্বাস্থ্যকর্মীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন রোগে। করোনার সাঁড়াশি চাপ থেকে রেহাই পেতে চিনের মতোই অভিনব পন্থা বার করল কেরল। স্বাস্থ্যকর্মীদের বদলে আসরে নামল রোবট-কর্মীরাা। মানুষকে সচেতন করা থেকে শুরু করে মাস্ক, স্যানিটাইজার বিলি করা, সব কাজই এখন মন দিয়ে করছে রোবট।
কেরলের সরকারি সংস্থা ‘কেরল স্টার্টআপ মিশন (KSUM)’এমন দু’টি রোবটকে কাজে লাগিয়েছে। হাসপাতালে সংক্রমণ সন্দেহে রোগীরা এলে তাদের আইসোলেশন ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া, মাস্ক, স্যানিটাইজার বিলি করা এমনকি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে রোগীদের খাবার ও প্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়ার কাজও করছে এই রোবট-কর্মীরা।
https://twitter.com/ShashiTharoor/status/1239753856344403969?ref_src=twsrc%5Etfw%7Ctwcamp%5Etweetembed%7Ctwterm%5E1239753856344403969&ref_url=https%3A%2F%2Findianexpress.com%2Farticle%2Ftrending%2Ftrending-in-india%2Fin-kerala-robots-are-dispensing-sanitizer-and-advice-amid-coronavirus-scare-6318412%2F
কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর এই ভিডিও টুইটারে পোস্ট করেছেন। সেখানে দেখা গেছে লোকজনের মধ্যে মাস্ক বিলি করছে দু’টি রোবট। এই রোবট দুটি বানিয়েছে অ্যাসিমভ রোবোটিক্স। বর্তমানে কাজ করছে কেরল স্টার্টআপ মিশনের কমপ্লেক্সে। সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, এই রোবটদের ডেটা সিস্টেমে প্রয়োজনীয় তথ্য ভরে দেওয়া আছে। কীভাবে রোগীদের পরিচর্চা করতে হবে, বাইরে থেকে আসা লোকজনকে মাস্ক দিতে হবে সবই করতে পারছে রোবট-কর্মীরা। করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতার পাঠ দিতেও কাজে লাগানো হয়েছে রোবট দুটিকে। আগামী দিনে এমন আরও রোবট নামানো হবে বলে জানিয়েছে অ্যাসিমভ রোবোটিক্স।
উহানের বিভিন্ন হাসপাতালেও কাজ করছে ডাক্তার-রোবটরা। কীভাবে রোগীদের আইসোলেশনে নিয়ে যেতে হবে, সেখানে কী কী করণীয়, কেমন ভাবেই বা হবে চিকিৎসা, সব শিখিয়ে পড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এই রোবটদের। সংক্রমণ কতটা হলে কী ওষুধ দিতে হবে সেটাও ভরে দেওয়া হয়েছে রোবটদের ডেটা সিস্টেমে। ৫-জি পাওয়ারের রোবট। এ টু জেড সব কাজ করতে পারে। ডাক্তারি তো বটেই। হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী থেকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও তাদের। যান্ত্রিক হাত বাড়িয়ে রোগীদের নির্দ্ধিতায় ছুঁচ্ছে এই রোবটরা। শরীরের তাপমাত্রা মাপছে, ওষুদও দিচ্ছে। সময় হলেই খাবারের থালা সাজিয়ে রোগীদের সামনে হাজির করছে ডাক্তার-রোবটরা। রোগীদের জামাকাপড় কাচা, তাদের পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্বও এদেরই ওপরে।
ভারতে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৭। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে যে পরিসংখ্যান দেওয়া হয়েছে তাতে আক্রান্তদের মধ্যে ২৫ জন বিদেশি পর্যটক। ইতিমধ্যেই সংক্রামিত হয়ে তিন জনের মৃত্যু হয়েছে দেশে। রাজ্যগুলির মধ্যে করোনা সংক্রমণে শীর্ষেই রয়েছে মহারাষ্ট্র ও কেরল। মহারাষ্ট্রে তিন বছরের এক শিশুর শরীরে মিলেছে ভাইরাস। রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ জনে। ১০৮ জন এখনও রাজ্যের নানা জায়গায় আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি। নিজের বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনে অন্তত ৬২১ জন। কেরলে ভাইরাস আক্রান্তের সংখ্যা ২৭ জন। উত্তরপ্রদেশে ১৬ জন সংক্রামিত। করোনা কবল থেকে রক্ষা পায়নি ভারতীয় সেনাবাহিনীও। লেহ-তে ৩৪ বছরের এক সেনাকর্মীর শরীরে কোভিড-১৯ সংক্রমণ ধরা পড়েছে।