
শেষ আপডেট: 16 November 2022 07:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখতে গ্রামের শতাধিক খুদে পড়ুয়াকে নিয়ে বসল রসগোল্লার পাঠশালা (Rasgulla Making Class) । ২০১৮ সালে জিআই স্বীকৃতি মেলার পর থেকে প্রতি বছর ১৪ নভেম্বর দিনটিকে ‘রসগোল্লা দিবস’ হিসেবে পালন করা হলেও এই বিশেষ দিনটি সম্পর্কে এবং রসগোল্লার ইতিহাস নিয়ে খুদে পড়ুয়ারা এখনও সেভাবে ওয়াকিবহাল নয়। তাই তাদের ডেকে রসগোল্লা খাইয়ে এই মিষ্টির ইতিহাসের পাঠ দিলেন পূর্ব বর্ধমানে (Burdwan) খণ্ডঘোষের জনপ্রতিনিধিরা।
ইতিহাসে নদিয়া জেলার হারাধন ময়রাকে রসগোল্লার সৃষ্টিকর্তা বলে ধরা হয়। তবে আধুনিক স্পঞ্জ রসগোল্লার প্রথম সৃষ্টিকর্তা হিসাবে কলকাতার বাগবাজারের নবীনচন্দ্র দাস ওরফে নবীন ময়রাকে খ্যাত। ১৮৬৮ সালে এই নবীন ময়রাই গোটা পৃথিবীতে রসগোল্লার পরিচিতি ঘটিয়েছিলেন বলে মনে করা হয়। তাই তিনি বিখ্যাত রসগোল্লার কলম্বাস নামে।
ছানা,ময়দা আর চিনি দিয়ে তৈরি রসগোল্লা নিয়ে গর্ববোধ করেন না এমন বাঙালি মেলাই ভার। এই রসগোল্লার জিআই স্বীকৃতি (Geographical Indication) পেতেও পশ্চিমবঙ্গকে মিষ্টি লড়াইয়ে সামিল হতে হয় ওড়িশার সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত বাংলাই ২০১৮ সালের ১৪ নভেম্বর জয় করে জিআই স্বীকৃতি।
ফের নৃশংস খুন তরুণীকে! গলার নলি কাটা ভিডিও পোস্ট করে প্রেমিক বলল, ‘স্বর্গে আবার দেখা হবে’
রসগোল্লার এই গর্বের ইতিহাস খুদে পড়ুয়াদের কাছে তুলে ধরতে মঙ্গলবার বিকেলে খণ্ডঘোষের জনপ্রতিনিধিরা বাদুলিয়া গ্রামের পীড়তলায় একটি শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেই অনুষ্ঠানে শিক্ষকের ভূমিকায় সামিল হন খণ্ডঘোষের ব্লক তৃণমূল সভাপতি অপার্থিব ইসলাম। তাঁর সঙ্গে ছিলেন জেলাপরিষদ সদস্য তথা স্কুলশিক্ষক বিশ্বনাথ রায়, সগড়াই গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সুখেন্দু পাল, স্কুল শিক্ষক অনাবিল ইসলাম এবং স্থানীয় শিক্ষানুরাগী শেখ কামালউদ্দিন।
প্রায় শতাধিক স্কুল পড়ুয়া রসগোল্লার ইতিহাসের পাঠ নিতে উপস্থিত হয়। তাদের সবার হাতে প্রথমে রসগোল্লা তুলে দেওয়া হয়। তারপর খুদে পড়ুয়াদের রসগোল্লা সৃষ্টির ইতিহাস নিয়ে পাঠদান শুরু করেন তাঁরা। ছোটদের সামনে তুলে ধরেন রসগোল্লার সৃষ্টিকর্তার পরিচিতি, রসগোল্লা সৃষ্টির সময়কাল, কী কী উপকরণ দিয়ে কী ভাবে রসগোল্লা তৈরি হয় এবং কীভাবে ওড়িশার সঙ্গে মিষ্টি যুদ্ধের পর বাংলার রসগোল্লা জিআই স্বীকৃতি লাভ করে, সেই সবকিছুই খুদে পড়ুয়াদের সামনে তুলে ধরেন।
পঞ্চায়েত ভোটের আগে বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল তাঁদের দলীয় কর্মীদের ভোট রাজনীতির পাঠ দিচ্ছেন। সেই সময় কেন গ্রামের খুদে পড়ুয়াদের রসগোল্লা নিয়ে পাঠদানের প্রয়োজন হল, সেই প্রশ্নের উত্তরে অপার্থিব ইসলাম বলেন, “বাংলার রসগোল্লা জিআই স্বীকৃতি পেয়েছে। তার জন্য প্রতিবছর ১৪ নভেম্বর রসগোল্লা দিবস পালিত হয়। এই রসগোল্লা দিবস পালনে শহর এলাকার মিষ্টি ব্যবসায়ীরা উৎসাহ দেখালেও গ্রাম বাংলায় তেমনটা হয় না। সেই কারণে গ্রামের খুদে পড়ুয়ারাও জানতে পারে না কেন বাংলার রসগোল্লা বিখ্যাত? তাঁরা যদি বাংলার গর্বের রসগোল্লা সম্বন্ধে অন্ধকারে থেকে যায়, তবে আগামী দিনে বাংলার রসগোল্লার ইতিহাসটাই মানুষের মন থেকে মুছে যাবে। সেটা যাতে না হয় তাই এদিন খুদে পড়ুয়াদের রসগোল্লার ইতিহাস জানানো হল।”