দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাস মহামারী (coronavirus pandemic) কালে রাজস্থানে (rajasthan) বেসরকারি স্কুল (private school) ছেড়ে সরকারি স্কুলে (government school) পড়ুয়া ভর্তির ঢল। গ্রাম ও শহরের গরিব অধ্যুষিত এলাকায় সরকারি স্কুলে প্রথম শ্রেণি থেকে বারো ক্লাস পর্যন্ত কোভিড ১৯ কবলিত গত দুটি শিক্ষাবর্ষে (২০২০-২১ ও ২০২১-২২) ছাত্রছাত্রী ভর্তি বেড়েছে প্রায় ১০ লাখ। আগামী ১৫-২০ দিনে আরও দেড় থেকে ২ লাখ পড়ুয়া সরকারি স্কুলমুখী হবে বলে আশা করছেন ডিরেক্টরেট অব সেকেন্ডারি এডুকেশন।
বছরখানেক বন্ধ থাকার পর কোভিড প্রটোকল (covid protocol)মেনে চলতি মাসেই নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস ফের খুলেছে রাজস্থানে।
শিক্ষা মহলের লোকজন বলছেন, দেশব্যাপী গ্রামীণ, শহুরে গরিব এলাকাগুলিতে বেসরকারি স্কুল ছেড়ে সরকারি স্কুলে ভর্তির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। রাজস্থানে তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
সরকারি পরিসংখ্যানে প্রকাশ, ২০১৯-২০ এ রাজস্থানের ৬৫ হাজার সরকারি স্কুলে ৮০ লাখ ৮৮ হাজার ৫৬৪জন পড়ুয়া ভর্তি হয়। সংখ্যাটা ২০২০-২১ এ বেড়ে হয় ৮৭ লাখ ৫০ হাজার ৪৩৮। ২০২১-২২ এ আরও বেড়ে দাঁড়ায় ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫২৯ এ। ২০১৯-২০ পর আগের দুটি বছরে সংখ্যাটা প্রায় একই ছিল বা কমছিল।
সরকারি স্কুলের দিকে অভিভাবকদের ঝুঁকে পড়ার কারণ ব্যাখ্যা করে শিক্ষা মহলের লোকজন বলছেন, কোভিড ১৯ এর ফলে আর্থিক সমস্যা চরমে পৌঁছেছে, তার মধ্যে সরকারি প্রকল্পও আকৃষ্ট করতে বাবা-মাদের। সেকেন্ডারি এডুকেশন ডিরেক্টর সৌরভ স্বামী বলেছেন, স্মাইল ও আও ঘর সে শিখে স্কিমে ভাল সাড়া মিলেছে। এধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে, পড়াশোনায় বাধা পড়বে না। আমাদের শিক্ষকদের বানানো অনলাইন কনটেন্ট আছে। দ্বিতীয়তঃ সম্প্রতি দেশজোড়া এক সমীক্ষায় (পারফর্ম্যান্স গ্রেডিং ইনডেক্স) আমাদের গ্রেড ওয়ান স্তরে উন্নীত করা হয়েছে। তৃতীয়তঃ আমাদের মডেল স্কুলগুলি, মহাত্মা গাঁধী ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল অভিভাবকদের মধ্যে বিরাট সাড়া ফেলেছে।
গত বছর কোভিড ১৯ এর প্রথম ধাক্কার পর চালু হয়েছিল স্মাইল কর্মসূচি। এতে অনলাইন ও অফলাইন শিক্ষার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। যেসব বাচ্চার ইন্টারনেট সংযোগ, ডিজিটাল সামগ্রী নেই, তাদের সপ্তাহে দুদিন করে ওয়ার্কশিট দিতে হয় এই প্রকল্পে।
দিল্লি-আইআইটির অর্থনীতি শাখার অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর রীতিকা খেরা বলছেন, আমরা দেখেছি, লকডাউনের আগে বেসরকারি স্কুলে ভর্তি হওয়া পড়ুয়াদের ২৬ শতাংশ এখন সরকারি স্কুলে এসেছে। খারেরা একটি সার্ভে করেছিলেন। তাতে বেরিয়েছে, আয় কমে যাওয়া, নানা জায়গায় বেসরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়া, সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের দেওয়া সাপ্তাহিক হোমওয়ার্ক , মিড ডে মিল---এসবই ফ্যাক্টর হিসাবে কাজ করেছে। হোমওয়ার্ক হয়তো সবসময় খুব কার্যকর হয় না। তবে স্কুলশিক্ষার একটা ছাপ বজায় রাখার চেষ্টা থাকে তাতে।
রাজস্থানে এখন মহাত্মা গাঁধী স্কুলের সংখ্যা ২০১। আরও ৩৪৮টি নতুন স্কুল খোলার প্ল্যান আছে সরকারের। এই স্কুলুগুলিতে ১৯ হাজার সিট আছে, কিন্তু চলতি শিক্ষাবর্ষে ৬৫ হাজার আবেদন এসেছে বলে খবর।