ভাগ্যিস তাঁর নজরে পড়েছিল! দু’সপ্তাহ পরে বাড়ি ফিরলেন উত্তরপ্রদেশের যুবক
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: রেলের এক সিভিক ভলান্টিয়ারের তৎপরতায় দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পরে বাড়ি ফিরলেন উত্তরপ্রদেশের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক। ওই যুবককে নতুন পোশাক কিনে দেওয়া থেকে সাময়িক ভাবে তাঁর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, সবই
শেষ আপডেট: 3 December 2019 11:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো, ঝাড়গ্রাম: রেলের এক সিভিক ভলান্টিয়ারের তৎপরতায় দু’সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পরে বাড়ি ফিরলেন উত্তরপ্রদেশের এক মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক। ওই যুবককে নতুন পোশাক কিনে দেওয়া থেকে সাময়িক ভাবে তাঁর থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা, সবই করেছেন সিভিক ভালান্টিয়ার।
রবিবার সকালে ঝাড়গ্রাম রেলস্টেশনের আশপাশে এক ব্যক্তিকে ঘুরে বেড়াতে দেখেন অমিত সোনকর। অমিত ঝাড়গ্রামেরই বাসিন্দা, তিনি ঝাড়গ্রাম জিআরপির সিভিক ভলান্টিয়ার। ওই অচেনা ব্যক্তির পরনে ছিল ময়লা ও ছেঁড়া পোশাক। অমিত ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথার বলার চেষ্টা করেন অমিত। তারপরে তাঁকে নতুন টি-শার্ট, প্যান্ট ও গামছা কিনে দেন। পেট ভরে খাওয়ান। তারপরে তার থেকে জানার চেষ্টা করেন বাড়ি কোথায়।
মানসিক ভারসাম্যহীন ওই যুবকের নাম সূরজ পটেল। বাড়ি উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ে। নাম-ঠিকানা বলার পরে ওই ব্যক্তি বেশ কয়েকটি মোবাইল নম্বর বলেন অনেক ভেবেচিন্তে। অন্তত চারটি মোবাইল নম্বরে ফোন করে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। তারপরে একটি নম্বরে ফোন লেগে যায়। সেটি সূরজের বাড়ির ফোন নম্বর। সূরজের দাদা চন্দনের সঙ্গে কথা হয় অমিতের। তিনিই পরে চন্দনের সঙ্গে সূরজের কথা বলিয়ে দেন ভিডিও কলের মাধ্যমে।
সকালেই সূরজকে স্থানীয় একটি ক্লাবঘরে নিয়ে গিয়ে সেখানে তাঁর থাকার বন্দোবাস্ত করে দেন অমিত। রবিবার সকাল থেকে সোমবার দুপুর পর্যন্ত ওই ক্লাবঘরেই ছিলেন সূরজ। সোমবার দুপুরে খাওয়াদাওয়া করানোর পর তাঁকে নিয়ে ঝাড়গ্রাম স্টেশনের দিকে রওনা হন অমিত।
জানা গেছে, মানসিক ভারসাম্যহীন হলেও, মাঝেমধ্যে স্মৃতি ফিরে আসে সূরজের। তিনি নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার পরে উত্তরপ্রদেশের প্রতাপগড়ের স্থানীয় কোতোয়ালি থানায় নিখোঁজের ডায়েরি করেন সূরজের বাড়ির লোকজন। কিন্তু তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
ইতিমধ্যে মন্টি পটেল নামে এক বন্ধুকে নিয়ে নীলাচল এক্সপ্রেসে চেপে ঝাড়গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক সূরজ পটেলের দাদা চন্দন। সোমবার দুপুরে তাঁরা ঝাড়গ্রামে পৌঁছন। চন্দনের হাতে ভাইকে তুলে দেন অমিত।
চন্দন পটেল বলেন, ‘‘ওই সিভিক ভলান্টিয়ারের জন্য ভাইকে ফিরে পেলাম। ওঁকে টাকা দিতে চেয়েছিলাম উনি নেননি।’’ অমিত সোনকর বলেন, ‘‘যা করেছি মানবিকতার খাতিরে। আমি সমাজের সেবা করে আনন্দ পাই। সূরজ বাড়িতে ফিরে গেলেন, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।”