
শেষ আপডেট: 11 June 2023 12:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পুরুলিয়া: পঞ্চায়েত ভোটের আগে বিড়ম্বনার ছবি। জীবিত বৃদ্ধাকে মৃত দেখিয়ে বার্ধক্য ভাতা বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল পুরুলিয়ার এক প্রত্যন্ত গ্রামে।
ঝালদা ২ নম্বর ব্লকের বামনিয়া-ব্যালাডি গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ৭৬ বছরের বয়সি জিত্নি কুমার। ২০১৫ সালে তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর একমাত্র নাতির সংসারে তাঁর ঠাঁই হয়েছে।
২০১৩ সালে তিনি গ্রামোন্নয়ন দফতর থেকে বার্ধক্য ভাতা পেয়ে আসছিলেন। কিন্তু চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আচমকাই সেই ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। খোঁজ খবর নিতে ঝালদা ২ নম্বর ব্লকের বিডিও অফিসের দ্বারস্থ হন তিনি। সেখানে তিনি জানতে পারেন গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে তাঁকে 'মৃত' দেখিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে। তাতেই এই বিপত্তি। বিষয়টির নিষ্পত্তি চেয়ে বিডিওর সঙ্গে দেখা করতে গেলে ওই বৃদ্ধার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ। ভাতা ফের চালু করতে জেলাশাসকেও চিঠি লিখেছেন। তবু সমস্যার সমাধান হয়নি।
বৃদ্ধার অভিযোগ, এই ঘটনার আগেই বার্ধক্য ভাতা পেতে তাঁর সমস্যা হয়েছিল। ২০১৩ সালে যখন তাঁর ভাতা চালু হয় সেই সময় একই নামের এক ব্যক্তি সেই টাকা তুলে নিয়েছিল। লিখিতভাবে অভিযোগ জানানোর পর তিনি বার্ধক্য ভাতা পেতে শুরু করে। দশ বছর বাদে এখন আবার নতুন করে সমস্যা তৈরি হয়েছে ভাতা নিয়ে। তিনি মৃত এমন রিপোর্ট দিয়ে গ্রামপঞ্চায়েত তাঁর ভাতাই বন্ধ করে দিয়েছে। এই বয়সে দৌড়ঝাঁপ করা তার পক্ষে সম্ভব নয়। তবুও নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে দফতরে দফতরে ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে তাঁকে।
বৃদ্ধার নাতি ধরম কুমার জানান, চারিদিকে ঘুরে কোনও সুরাহা পাওয়া যাচ্ছে না। একজন বেঁচে থাকতে কীভাবে গ্রামপঞ্চায়েত তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে রিপোর্ট দিল তা দেখে তাজ্জব হয়ে যেতে হচ্ছে। যারা এই কাজের সঙ্গে যুক্ত তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন।
যদিও ঘটনা জানার পর জেলা প্রশাসক দফতর জানিয়েছে, এই বিষয়টি নিয়ে তারা তদন্ত করছে। খুব শীঘ্রই ওই বৃদ্ধার ভাতা চালু করা ব্যবস্থা করবে তারা।