দ্য ওয়াল ব্যুরো : একজন রসায়নবিদ (Chemist), একজন হকার ও একজন ট্যাক্সি ড্রাইভার। মঙ্গলবার কাশ্মীরে এক ঘণ্টার মধ্যে গুলি করে তিনজনকে মারল জঙ্গিরা। পুলিশ জানিয়েছে, শ্রীনগরের ইকবাল পার্ক অঞ্চলে বিন্দ্রো মেডিক্যাল ফার্মেসি নামে এক ওষুধের দোকান চালাতেন মাখনলাল বিন্দ্রো। তিনি ছিলেন রসায়নবিদ। মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাতটা নাগাদ জঙ্গিরা তাঁকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে। ৭০ বছর বয়সী বিন্দ্রোকে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ বাহিনী। জঙ্গিরা পালিয়ে যায়। তাদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান চলছে।
ন'য়ের দশকে জঙ্গি তৎপরতা যখন তুঙ্গে তখনও কাশ্মীরি পণ্ডিত বিন্দ্রো শ্রীনগর ছেড়ে যাননি। জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা বিন্দ্রোকে হত্যার তীব্র নিন্দা করেছেন। তাঁর কথায়, "ভয়ংকর ঘটনা ঘটেছে। বিন্দ্রো ছিলেন খুবই দয়ালু মানুষ। জঙ্গি তৎপরতা যখন তুঙ্গে, তখনও তিনি কাশ্মীর ছেড়ে যাননি। দোকান খোলা রেখেছিলেন। তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানাই।"
বিন্দ্রোকে হত্যার কিছুক্ষণের মধ্যেই জঙ্গিরা শ্রীনগরের অদূরে লাল বাজার অঞ্চলে হানা দেয়। সেখানে বীরেন্দ্র পাসোয়ান নামে এক ব্যক্তি রাস্তায় খাবার বিক্রি করতেন। জঙ্গিরা তাঁকে গুলি করে মারে। বীরেন্দ্রর বাড়ি ছিল বিহারের ভাগলপুর জেলায়। তিনি শ্রীনগরের জাদিবাল অঞ্চলে থাকতেন।
এই ঘটনার কিছুক্ষণ পরেই জঙ্গিরা বান্দিপোরা অঞ্চলে হানা দেয়। সেখানে আরও এক নিরীহ মানুষকে গুলি করে মারে। তাঁর নাম ছিল মহম্মদ শফি। তিনি স্থানীয় ট্যাক্সি ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে তল্লাশি চালাচ্ছে।
এই নিয়ে গত চারদিনে বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করল জঙ্গিরা। এর আগে তারা শনিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটার সময় শ্রীনগরের কারানগর অঞ্চলে এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুরুতর আহত হন মজিদ আহমেদ গজরি নামে ওই ব্যক্তি। পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। জঙ্গি হানার পরেই পুলিশ পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। শুরু হয় তল্লাশি অভিযান।
এদিন সন্ধ্যা আটটার সময় বাতমালু অঞ্চলে আর এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে গুলি চালায় জঙ্গিরা। পুলিশ জানিয়েছে, মহম্মদ শাফি দার নামে ওই ব্যক্তির আঘাত গুরুতর। তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিন সন্ধ্যা ছ'টা বেজে ৫০ মিনিট নাগাদ অনন্তনাগে সিআরপিএফের বাঙ্কারে গ্রেনেড ছোড়া হয়। তবে তাতে কেউ হতাহত হয়নি।