দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রজাতন্ত্র দিবসের ট্যাবলো বাতিল নিয়ে তৃণমূলের সুরেই কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানাল সিপিএম।
২৬ জানুয়ারি প্রজাতন্ত্র দিবসে দিল্লির কুচকাওয়াজে বাংলার নেতাজি ট্যাবলো বাতিল নিয়ে বিস্তর পত্র সংঘাত হয়েছে। বাংলার ট্যাবলো বাতিল হওয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি লিখে রাজনীতির অভিযোগ করেছিলেন। তারপর কেন্দ্রীয় সরকার ব্যাখ্যা দিয়ে বলে, একেবারেই রাজনীতির যোগ নেই। কোন ট্যাবলো কুচকাওয়াজে থাকবে বা থাকবে না তা ঠিক করে বিশেষজ্ঞ কমিটি। এখানে রাজনীতির বিষয় নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একই কথা চিঠি লিখে বলেছিলেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। কিন্তু শুক্রবার সিপিএম রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র স্পষ্ট করেই বলেন, রাজনৈতিক কারণেই বাতিল করা হয়েছে বাংলার ট্যাবলো।
এদিন সিপিএম রাজ্য দফতরে পার্টির রাজ্য সম্মেলনের লোগো প্রকাশ অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিক বৈঠকে সূর্যবাবুকে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। শুক্রবার সকালে মোদী টুইট করে লেখেন, দিল্লির ইন্ডিয়া গেটে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর বিশাল মূর্তি বসানো হবে মোদীর কথায়, এ বছর নেতাজির ১২৫তম জন্মবার্ষিকী পালিত হচ্ছে সারা দেশে। নেতাজির কাছে সারা দেশ ঋণী, এই মূর্তি তারই স্মারক হয়ে থাকবে। সেই প্রসঙ্গেই সূর্যবাবু বলেন, উনি পাপস্খলন করার চেষ্টা করছেন। এভাবে পাপস্খলন হয় না।
এরপরেই সিপিএম রাজ্য সম্পাদক বলেন, 'আমরা দেখেছি কী ভাবে ট্যাবলো নিয়ে রাজনীতি হয়েছে। আমাদের রাজ্যের ট্যাবলো বাতিল করা হয়েছে। তামিলনাড়ু, কেরলের ট্যাবলোও বাতিল হয়েছে। কর্ণাটক ছাড়া দক্ষিণের কোনও রাজ্যের ট্যাবলো থাকছে না!' অনেকের মতে সূর্য বোঝাতে চেয়েছেন, কর্ণাটকে যেহেতু বিজেপি সরকার তাই শুধুমাত্র ওই রাজ্যের ট্যাবলোকেই জায়গা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এর পিছনে আরএসএস-এর রাজনীতি নেই এটা ভাবা ঠিক নয়। পুরোটাই ওদের নির্দেশে হচ্ছে। সূর্যবাবুর কথায়, 'হিন্দু মহাসভা সম্পর্কে নেতাজির কী অবস্থান ছিল আমরা জানি। আবার স্বাধীনতা আন্দোলনে হিন্দুত্ববাদীদের কী ভূমিকা ছিল সেটাও আমাদের জানা আছে। ওরা ইতিহাস বিকৃত করতে চায়।'
সূর্যবাবু এই মন্তব্য নিয়ে বিজেপিও প্রতিক্রিয়া দিয়েছে। বিজেপি মুখপাত্র জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, 'ডাক্তার সূর্যকান্ত মিশ্রর কি ভুলে যাওয়ার রোগ ধরল? কমিউনিস্টরাই তো নেতাজিকে তোজর কুকুর বলেছিলেন, এ আজাদি ঝুটা হ্যায় বলেছিলেন। এখন ওদের নেতাজি আর স্বাধীনতার প্রতি দরদ দেখলে হাসিও পায়!'