
শেষ আপডেট: 27 July 2018 14:46
তাঁর অটোগ্রাফ[/caption]
সভা শেষ করেই সটান হাসপাতালে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। কথা বলেন প্রায় আহতদের সঙ্গে, খোঁজ নেন কেমন আছেন তাঁরা। কিন্তু রীতা-অনিতার জন্য অপেক্ষা করছিল আরও কিছু। প্রধানমন্ত্রী খোঁজ তো নেনই, সেই সঙ্গে স্নেহের হাত বুলিয়ে দেন দু’জনের মাথায়। দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন এই দুই বোনের, আশীর্বাদ করেন আন্তরিক ভাবে। এত কাছে দেশের প্রধানমন্ত্রীকে পেয়ে, তাঁর আশীর্বাদ নিয়ে, অটোগ্রাফ নিয়ে নিতে ভুল করেননি জঙ্গলমহলের এই দুই কন্যা।
পাশেই কেউ এক জন এগিয়ে দেন কাগজ। সইয়ের জন্য অনুরোধ করেন দুই বোন। "উনি প্রথমে রাজি হননি। তার পরে আমি একটু অনুরোধ করতেই লিখে দেন, 'রীতা মুদি তুম সুখী রহো'। বোনের নাম করেও একই কথা লেখেন।"-- বলেন রীতা। ব্যস, এতেই কেল্লা ফতে। প্রধানমন্ত্রীর আশীর্বাদের চিহ্নখচিত এই কাগজ ঘিরেই যেন চড়চড়িয়ে বাড়তে থাকে দুই বোনের খ্যাতির পারদ।
এই খবর জানাজানি হতেই অভিনন্দনের ঢল নামে রীতা-অনিতার উপরে। দেশ ও রাজ্যের বিভিন্ন প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হয় ঘটনাটি। জঙ্গলমহলের রীতা-অনিতার প্রধানমন্ত্রীর স্পর্শ আর অটোগ্রাফ পাওয়ার খবর জেনে যায় সকলে। রানীবাঁধের এই দুই বোনকে চিনতে ভুল হয়নি তাঁদের সহপাঠী, বন্ধু, আত্মীয়স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী থেকে আশপাশের গ্রামে কারওই। তাই হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি ফিরতেই এই দুই বোনের বাড়িতে ভিড় জমিয়েছেন সকলে। তাঁরা যেন রাতারাতি সেলিব্রিটি হয়ে উঠলেন! রীতা বলছেন, "শেষ দশ দিন যেনম নিঃশ্বাস ফেলার ফুরসৎ পাইনি!"
এখানেই শেষ নয়। এর পরেই বিভিন্ন জায়গা থেকে বিয়ের প্রস্তাব আসতে শুরু করে দুই বোনের। রীতার জন্য বিয়ের প্রস্তাব আসে ভিন্ রাজ্য থেকেও। ঝাড়খন্ডের টাটার এক জন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, বিনা পণে রীতাকে বিয়ে করতে চেয়ে চিঠি লিখেছেন। জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দুই বোনের সাক্ষাতের খবর দেখেই তিনি এই বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। এ ছাড়াও বাঁকুড়ার বিভিন্ন জায়গা থেকে আসে একাধিক বিয়ের প্রস্তাব। বোনেরা অবশ্য এখন বিয়েতে নারাজ। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর 'বেটি পড়াও বেটি বাঁচাও' মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে চান এবং নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে চান। বিয়ের কথা তার পরে ভাববেন। তাঁদের পরিবারের লোকজনও তাঁদের সাথে একমত।
আপাতত এই হঠাৎ-সেলিব্রিটি জীবনে বেশ মশগুল জঙ্গলমহলের দুই কন্যা।