
শেষ আপডেট: 22 July 2023 12:39
দ্য ওয়াল বুরো, মালদহ: বামনগোলা থানার পাকুয়াহাটে দুই আদিবাসী মহিলাকে বিবস্ত্র করে মারধরের ঘটনায় এবার পুলিশের (Police) বিরুদ্ধেই গুরুতর অভিযোগ আনলেন নির্যাতিতা দুই মহিলার পরিবার। পরিবারের দাবি, ১৯ জুলাই মালদহের পাকুয়াহাটে পুলিশের সামনেই তাদের বিবস্ত্র করে মারধর করা হয়। অথচ অভিযুক্তদের গ্রেফতারের (Arrest) পরিবর্তে নির্যাতিতাদেরই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার প্রতিবাদে মালদহের পুলিশ সুপার এবং মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে এদিন দুপুর থেকে পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাও করে অবস্থানে বসেছে বিজেপি।
বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, “এরাজ্যে মহিলাদের কোনও আত্মসম্মান নেই। পুলিশের সামনেই দু’জন মহিলাকে বিবস্ত্র করে মারধর করা হল। অথচ পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখল। পরে তাদেরকেই গ্রেফতার করল। লজ্জায় মাথা হেঁট হয়ে যাচ্ছে। কোন রাজ্যে রয়েছি আমরা!”
মণিপুরে দুই তরুণীকে ধর্ষণ করার পর উলঙ্গ করে গ্রাম ঘোরানোর ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড়। শুক্রবার ২১ জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে মণিপুরের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, “কোথায় গেল, আপনার বেটি বাঁচাও স্লোগান! মণিপুরের বেটি জ্বলছে!” ২৪ এর লোকসভা ভোটে দেশের মহিলারাই বিজেপিকে রাজনীতির ময়দান থেকে ছুড়ে ফেলে দেবে বলেও দাবি করেছিলেন মমতা।
সেই প্রসঙ্গ টেনে বিজেপি সাংসদ খগেন মুর্মু বলেন, “বাংলার পুলিশ তো অপরাধীদের আড়াল করে। মালদহের ঘটনা সেটাই প্রমাণ করে। উনি কোন সাহসে অন্য রাজ্যের দিকে আঙুল তোলেন?’’ নালকোলা পুলিশ ফাঁড়ি থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে সিভিক ভলান্টিয়ারের সামনেই গত ১৯ জুলাই দুই মহিলাকে চোর সন্দেহে প্রায় বিবস্ত্র করে জুতোপেটা করার অভিযোগ উঠেছে। মারধরের সেই ভিডিও সামনে আসতেই রীতিমতো শোরগোল রাজ্য রাজনীতিতে। উঠেছে নিন্দার ঝড়ও।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের কটাক্ষ, “বাংলার মানবিকতা ছিন্নবিছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ত্রিপুরা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বাংলা নিয়ে ভাবুন।” পাল্টা হিসেবে তৃণমূলের যুব নেত্রী সায়নী ঘোষের অভিযোগ, “মণিপুর থেকে নজর ঘোরাতেই ভুয়ো ছবি ছড়ানো হচ্ছে।” সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম অবশ্য বাংলার এমন পরিস্থিতির জন্য বিজেপি-তৃণমূল দু’পক্ষকেই দুষেছেন। তাঁর কথায়, “গুজব ছড়িয়ে গণধোলাই দেওয়ার কালচার আরএসএসের। বাংলায় ওদের ঢুকতে সাহায্য করেছে তৃণমূল।”
দিনহাটায় ধৃত বিজেপি নেতার পাঁচদিনের পুলিশ হেফাজত, গণনাকেন্দ্রে অশান্তি পাকানোর অভিযোগ