
শেষ আপডেট: 17 March 2023 05:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরও দু'টি আট হাজারি শৃঙ্গ অভিযানে বেরিয়ে পড়লেন চন্দননগরের পাহাড়কন্যা পিয়ালী বসাক (Piyali Basak)। এবারেও তিনি কোনও কৃত্রিম অক্সিজেনের সাহায্য নেবেন না বলেই জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার বিকেলে চন্দননগর স্টেশন থেকে রক্সৌল মিথিলা এক্সপ্রেসে রওনা দিয়েছেন পিয়ালী। এবার তাঁর লক্ষ্য, পৃথিবীর দশম উচ্চতম শৃঙ্গ অন্নপূর্ণা, ৮০৯১ মিটার (Mount Annapurna) এবং পঞ্চম উচ্চতম শৃঙ্গ মাকালু, ৮৪৮১ মিটার (Mount Makalu)। সব ঠিক থাকলে ১৯ তারিখেই নেপালের কাঠমান্ডু থেকে অভিযান শুরু হবে তাঁর।

গত বছরেই এভারেস্ট আরোহণ করেন পিয়ালী। কৃত্রিম অক্সিজেন ছাড়াই শৃঙ্গ ছোঁবেন বলে বেরোলেও, শৃঙ্গে ওঠার শেষ চারশো মিটার বাকি থাকতে অক্সিজেন নিতে হয়েছিল তাঁকে। এই নিয়ে বিতর্কও ঘনিয়েছিল অনেক। প্রশ্ন উঠেছিল, শেষে যদি অক্সিজেন নিতেই হয় তবে বাকি অভিযান অক্সিজেন না নিয়ে করলেও তা আদৌ 'বিনা অক্সিজেন' বলে স্বীকৃতি পেতে পারে কিনা। তার আগের বছর পিয়ালী ছুঁয়েছিলেন ধৌলাগিরি শৃঙ্গের চুড়ো। সেবার তিনি কৃত্রিম অক্সিজেন ব্যবহার করেননি বলেই জানিয়েছিলেন।
তবে এই সমস্ত পাহাড়ের চেয়েও পিয়ালীর জীবনে বড় পাহাড় রয়েছে ঋণের। আর্থিক প্রতিকূলতার মধ্যে বছর বছর এই পর্বতারোহণে অনেক খরচ। তেমন কোনও স্পনসর নেই, নেই সরকারি সাহায্য। তার মধ্যেই চেয়েচিন্তে টাকা জোগাড় করেন পিয়ালী, বেরিয়ে পড়েন আটহাজারি অভিযানে। এবছরের অভিযানেও যেমন তাঁর ৩১ লক্ষ টাকা প্রয়োজন হলেও, তার মধ্যে মাত্র তিন লাখ তিনি জোগাড় করতে পেরেছেন। ডিভিসি-র তরফে আরও পাঁচ লাখ টাকা পাওযার কথা। বাকি টাকা এখনও অনিশ্চিত।

চন্দননগর কাঁটাপুকুর এর বাসিন্দা পিয়ালী বসাক বলেন, 'আমার আশা, আবহাওয়া যদি সঙ্গ দেয় মাকালু ও অন্নপূর্ণা শৃঙ্গ জয় করব। একমাস ধরে অভিযান চলবে। পাহাড়ে তুষার ঝড় তো চলবেই। তার মাঝেই হয়তো চার-পাঁচটা দিন পাওয়া যাবে, যাকে ওয়েদার উইন্ডো বলে। সেই সময়ের মধ্যে শৃঙ্গ ছুঁয়ে নেমে আসতে হবে। পর্বতারোহণ শুধু খেলা নয়, এর মাধ্যমে বোঝানো যায় মানসিক জোর এবং সব বাধা পেরিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা। হিমালয় আর আবহাওয়া যদি সাথ দেয় তাহলে অক্সিজেন ছাড়াই আবারও দু'টি আট হাজারি শৃঙ্গ জয় করতে পারব।'
পিয়ালীর মা স্বপ্না বসাক বলেন, 'মেয়ে যাওয়ার সময় চিন্তা হলেও আশা করব সামিট করে ফিরবে। এটা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ সেটা যারা করে তারাই জানে। বেস ক্যাম্প পর্যন্ত যোগাযোগ থাকলেও তার পরে আর যোগাযোগ থাকে না। সামিট করলে জানা যায় এজেন্সির মারফত। এজেন্সিকে সময় মত টাকা মেটানো নিয়েও দুশ্চিন্তা আছে।'

প্রসঙ্গত অন্নপূর্ণাকে বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক শৃঙ্গ বলা হয়। এই অভিযানের প্রতি পদে রয়েছে ঝুঁকি। সেইসব পার করে, আর্থিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে পিয়ালী আবার সামিট করবেন বলেই আশাবাদী তাঁর পরিবার ও শুভানুধ্যায়ীরা।