শেষ আপডেট: 17 November 2019 18:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোথায় যেন তালটা কেটে গেল। কোথায় যেন ছন্দটা ভেঙে গেল। গত কয়েক মাস ধরে যে একের পর এক অঙ্গদানের নজির সামনে আসছিল, যেভাবে বহু মানুষ প্রাণ ফিরে পাচ্ছিলেন এই সচেতনতায়, চিকিৎসা জগতের সেই ইতিবাচক ইতিহাস যেন একটু বেসুরো বাজল হঠাৎই।
হুগলির বাসিন্দা, ২৭ বছরের অতনু চক্রবর্তীর ব্রেন ডেথ হওয়ার পরে তাঁর পরিবার প্রশ্ন তুললেন, "অঙ্গ দান করে আর কী পাব বলুন?" চিকিৎসকেরা বোঝানোর চেষ্টা করেন, তাঁদের মৃত ছেলের অঙ্গগুলি দিয়ে ফিরে পাওয়া যেতে পারে একাধিক সন্তানের প্রাণ। কিন্তু কিছুতেই রাজি হননি তাঁরা। শেষমেষ কেবল দু'টি কিডনি দিতে রাজি হয় অতনুর পরিবার। কার্যত হাতে-পায়ে ধরেও রাজি করানো যায়নি তরতাজা হার্ট ও লিভার দান করতে। অথচ সমস্ত অঙ্গই খুব ভাল অবস্থায় ছিল। চাহিদাও ছিল প্রতিস্থাপনের। কিন্তু সম্ভব হল না। হতাশ স্বাস্থ্য দফতর, হতাশ রিজিওনাল অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট অর্গানাইজেশনের (রোটো) কর্তারাও। দু'টি কিডনি প্রতিস্থাপনের অস্ত্রোপচার করা হয় রবিবার। গত দু'বছরে একের পর এক ব্রেন ডেথ হওয়া রোগীর পরিবার অঙ্গদানে রাজি হওয়ায় এ রাজ্যে ক্রমশ বাড়ছিল মরণোত্তর অঙ্গদানের ধারা। ভাবা হচ্ছিল, এ রাজ্যের মানুষ অঙ্গদানের বিষয়ে ক্রমশ সচেতন হচ্ছেন। কিন্তু রবিবার এসএসকেএম হাসপাতালে অতনুর পরিবার হার্ট ও লিভার দিতে রাজি না হওয়ায় একটু যেন থমকে গেল সচেতনতার জয়যাত্রা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ৭ নভেম্বর পথ দুর্ঘটনায় আক্রান্ত অতনুকে ভর্তি করা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। রবিবার সকালে তাঁর ব্রেন ডেথ ঘোষণা করা হয়। এর পরেই তাঁর অঙ্গ সংগ্রহের জন্য পরিবারকে জানান চিকিৎসকেরা। পরিবারের তরফে না করে দেওয়া হয়। এর পরে দুপুর পর্যন্ত আর কিছুই বলেননি তাঁরা। তাঁদের মোবাইল ফোনও সুইচড অফ হয়ে যায়। ফলে কেন তাঁরা রাজি হলেন না, তা আর জানা যায়নি। রোটো-র সহ-অধিকর্তা অর্পিতা রায়চৌধুরীর বলেন, "আমরা আশাহত। এসব ঘটনা আরও বাড়ার কথা, তাতে মানুষের সচেতনতাও বাড়বে। কিন্তু সেখানে আজ রাজিই হল না এই রোগীর পরিবার। তবে সকলে এই বিষয়টি না বুঝলে এমন ঘটনাই ঘটবে। দোষ ওই পরিবারের নয়, আমাদেরই। আমরাই বোঝাতে পারছি না জনগণকে। ওই যুবকের হার্ট ও লিভার আরও দুটো মানুষের প্রাণ নিশ্চিত ভাবে বাঁচাতে পারত। কত বুঝিয়ে বললাম আমরা। কিন্তু তাঁরা রাজি হলেন না।"