
শেষ আপডেট: 10 June 2022 14:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর পাঁচদিনের মতই বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন রিমা সিং। মাকে বলে এসেছিলেন, 'তাড়াতাড়ি ফিরব'। কারণ আজ তাঁর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। আজই তাঁর পাকা দেখার কথা। তবে, আর ফেরা হল না বাড়িতে। পার্কসার্কাসে (Park Circus) গুলিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। বাড়িতে তখন তাঁরই অপেক্ষায় পথ চেয়ে বাবা-মা।
মেয়ের মৃত্যুর খবর প্রথমে বিশ্বাসই করেননি রিমার বাবা মা। বাড়িতে তখন এই বিশেষ দিনের জন্য সাজগোজ চলছে। কিন্তু সেই আনন্দে নেমে আসে বিষাদের ছায়া। মেয়ের মৃত্যুর খবর পৌঁছাতেই শোকে পাথর হয়ে যান মা। আর বাবা, ধরে রাখতে পারেননি চোখের জল। খবর পেয়েই ছুটে আসেন রিমার হবু বর প্রবীর রায়।
বাবার কারখানা বন্ধ প্রায় পাঁচ বছর। তাই পড়াশুনা মাঝ পথে থামিয়েই ফিজিওথেরাপির ট্রেনিং নেওয়া শুরু করেন রিমা। বাবার টুকটাক উপার্জন ও রিমার ফিজিওথেরাপির সামান্য টাকা দিয়ে সংসার চলত। তাই এদিন তাঁর জীবনের বিশেষ দিনেও বাড়িতে না থেকে দুপুর ১২ টা নাগাদ কাজে বেরোন রিমা।
হাওড়ার দাসপাড়া থানা এলাকার ১৩৩ ফকির মিস্ত্রি বাগান লেনের বাড়িতে এখন শুধুই কান্নার রোল শোনা যাচ্ছে। রিমার মা জানান, তাড়াতাড়ি ফিরব বলে হাসতে হাসতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল রিমা। আর ফিরল না। আজই তাঁর বিয়ের তারিখ ঠিক হওয়ার কথা ছিল।
রিমার সিংহের বিয়ে কথাবার্তা চলছিল প্রবীর রায় নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে। হবু বউয়ের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে রিমার বাড়ি ছুটে আসেন তিনি। তাঁর কথায়, তিনি টিভি থেকে খবর পেয়ে রিমার ফোনে ফোন করেছিলেন। সেই সময় বেনিয়াপুকুর থানা অফিসার ফোন তোলেন। তাঁর কাছ থেকে হবু স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদ পান।
লকডাউনে রিমার পরিবারের আর্থিক পরিস্থিতি খারাপ হতে থাকে। বাবার কাজ চলে যাওয়া মা, ভাই, দিদার দায়ভার এসে পরে রিমার কাঁধে। তাই দ্বিতীয়বর্ষে রেজাল্ট বেরনোর পর পড়াশোনা ছেড়ে দেন রিমা। ফিজিওথেরাপির ট্রেনিং নেওয়া শুরু করেন। বাবার টুকটাক উপার্জন ও রিমার ফিলিওথেরাপির সামান্য টাকা দিয়ে সংসার চলত। মেয়ের মৃত্যুর পর অথৈ জলে পড়ল গোটা সিং পরিবার।
উল্লেখ্য, শুক্রবার পার্কসার্কাসের (Park Circus) বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশনের ৫০ মিটার দূরেই এক নিরাপত্তারক্ষীর এলোপাথাড়ি গুলিতে প্রাণ হারান রিমা। পরে নিজের সার্ভিস রাইফেলের গুলিতে আত্মঘাতী হন ওই পুলিশকর্মী চোদুপ লেপচাও। আহত হন বাইক চালক। ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। কেন এমন ঘটালেন পুলিশকর্মী চোদুপ লেপচা? তাঁর মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক ছিল তো? তদন্তে সেটাও খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছেন কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েল।
আত্মঘাতী পুলিশকর্মীর মানসিক স্বাস্থ্য কেমন ছিল? তদন্তে সেটাও দেখা হবে, জানালেন সিপি