দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাত্রছাত্রীরা ক্লাসে বসে আছে, পড়াশোনা করতে পারছে না। কারণ শিক্ষকেরা বসে আছেন রাস্তায়। সরকারি চাকরি করেও কেন কাজ করছেন না তাঁরা, তা জানার অধিকার আছে রাজ্যের।-- পার্শ্বশিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে এমনই দাবি করলেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।
বেতন কাঠামো-সহ চার দফা দাবিতে সল্টলেকে আন্দোলন শুরু করেছিলেন রাজ্যের পার্শ্বশিক্ষকরা। সেই আন্দোন থেকেই শুরু হয় অনশন। সেও পেরিয়ে গেল আড়াই সপ্তাহ। কিন্তু তাতে কোনও হেলদোল নেই সরকারের। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাঁদের ন্যায্য দাবিদাওয়া পূরণে কোনও নজরই নেই সরকারের। তাই তাঁরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি যতক্ষণ না পূরণ হবে, ততক্ষণ অনশন চলবে।
এই পরিস্থিতিতে অবশ্য অন্য দিকে টনক নড়ে উঠেছে সরকারের। তাই আন্দোলনকারীদের শোকজ করা হয়েছে শিক্ষা দফতরের তরফে। কোনও আগাম অনুমতি বা ঘোষণা ছাড়া ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুলে অনুপস্থিত থাকা পার্শ্বশিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সেই সঙ্গে জানানো হয়েছে ওই শোকজ নোটিসের জবাব দেওয়ার জন্য আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত সময় রয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষকদের হাতে। সেই জবার খতিয়ে দেখে, কারও জবাবে সন্তুষ্ট না হলে সেই তালিকা দ্রুত পাঠিয়ে দেওয়া হবে সল্টলেকের বিকাশ ভবনে।
শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এ প্রসঙ্গে বলেন, "ছাত্ররা ক্লাসে বসে, অথচ ক্লাস হচ্ছে না। কারণ শিক্ষকেরা রাস্তায় বসে আছেন। সরকারি চাকরি করছেন অথচ কাজ করছেন না। আমাদের জানার অধিকার আছে, কেন তাঁরা কাজ করছেন না। ওঁদের যা দাবি, তা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলব। কিন্তু ওঁরা ক্লাস না করিয়ে রাস্তায় বসে বলছেন কোর্টে যাব। কোর্টে গেলে যাবেন, কী করার আছে!"
গত জুলাই মাসে দীর্ঘ অনশনের পর জয় পেয়েছিলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা। দাবি ছিল গ্রেড পে বাড়াতে হবে। শেষমেশ আন্দোলনের তীব্রতার সামনে মাথা ঝোঁকাতে হয় সরকারকে। ২৬০০ টাকা থেকে বেড়ে প্রাথমিক শিক্ষকদের গ্রেড হয় ৩৬০০ টাকা। কিন্তু তার পর অন্য সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে দু’সপ্তাহ আগেই শিক্ষক আন্দোলনে উত্তাল হয়েছিল বাঘাযতীন এলাকা। শিক্ষকদের মিছিল শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ির দিকে এগোতে শুরু করলে তা আটকে দেয় পুলিশ। তা নিয়েও উত্তেজনা ছড়ায়। গ্রেফতারও করা হয় বেশ কয়েক জন শিক্ষক আন্দোলনের নেতানেত্রীকে। এবার ফের আন্দোলনের ময়দানে পার্শ্বশিক্ষকরা।
রাজ্যে মোট ৪৮ হাজার পার্শ্বশিক্ষক রয়েছেন। বিকাশ ভবনের সামনের অবস্থানে যোগ দিয়েছেন প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষক। ৪৬ জন অনশন করছেন। এর মধ্যে ৮ জন মহিলা। শিক্ষক সংগঠনের বক্তব্য, তাঁরা চেষ্টা করেছিলেন সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসার। কিন্তু সরকারের কোনও ভ্রূক্ষেপই নেই বলে দাবি তাঁদের।