
শেষ আপডেট: 16 November 2023 17:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো, শিলিগুড়ি: ঝরঝরে বাংলায় কথা বলছেন ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কিতে ধৃত পাকিস্তানি মহিলা। যা দেখে-শুনে অবাক তদন্তকারী পুলিশ আধিকারিকরা। বুধবার ভারত-নেপাল সীমান্তের পানিট্যাঙ্কি থেকে নাবালক পুত্র-সহ ওই পাকিস্তানি মহিলাকে গ্রেফতার করে সীমা সুরক্ষা বাহিনী। তারপরেই খড়িবাড়ি থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয় তাঁদের। বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে তোলা হয় তাঁদের।
এদিন আদালতে যাওয়ার পথে তবে করাচির বাসিন্দা ওই পাকিস্তানি মহিলা শায়েস্তা হানিফ বিশুদ্ধ বাংলায় বলেন, আদতে তিনি ভারতেরই মেয়ে। বিবাহসূত্রে গিয়েছিলেন পাকিস্তানে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশও জানতে পেরেছে, একসময়ে অসমের শিলচরে থাকতেন শায়েস্তা। মুম্বইতে গিয়ে করাচির বাসিন্দা মহম্মদ হানিফের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। তারপরই প্রেম ও বিয়ে হয়। বিয়ের পর ধর্মান্তরিত হন। কিছুদিন পাকিস্তানে কাটিয়ে হানিফের সঙ্গে কর্মসূত্রে সৌদি আরবে চলে যান শায়েস্তা। হানিফ জেড্ডায় স্বর্ণশিল্পী হিসেবে কাজ করতেন। গত ৮ নভেম্বর ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে জেড্ডা থেকে বিমানে দিল্লি হয়ে নেপালের কাঠমান্ডুতে পৌঁছন। বুধবার সকালে ছেলেকে নিয়ে নেপালের কাঁকরভিটা দিয়ে পায়ে হেঁটে সীমান্তের মেচি সেতু পেরিয়ে ভারতের পানিট্যাঙ্কি ঢোকার সময় এসএসবি জওয়ানরা তাঁকে আটক করে।
এসএসবি জানায়, তাদের কাছে পাসপোর্ট ও নেপালের ভিসা ছিল। কিন্তু ভারতের ভিসা না থাকায় তাঁদের গ্রেফতার করে খড়িবাড়ি পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এদিন ধৃত মহিলাকে শিলিগুড়ি মহকুমা আদালতে ও তাঁর নাবালক ছেলেকে দার্জিলিং জুভেনাইল আদালতে পাঠানো হয়। খড়িবাড়ি থানা থেকে আদালতে যাওয়ার সময় ওই পাকিস্তানি মহিলা জানান, বেড়াতে এসেছেন। কলকাতায় তাঁর বোনের বাড়ি রয়েছে। তবে ভারতের ভিসার জন্য আবেদন করেও পাননি। তদন্তের স্বার্থে তাঁকে সাতদিনের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুলিশ। নেপাল থেকে হেঁটে মেচি সেতু দিয়ে ভারতে ঢোকার সময় সময় বুধবার সীমান্তে মোতায়েন এসএসবি জওয়ানরা তাদের আটক করে।
এদিন ওই মহিলাকে সাতদিন পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেয় শিলিগুড়ি আদালত। পুলিশের দাবি ওই মহিলার কথায় অসঙ্গতি রয়েছে। তাই তাকে জেরা করা দরকার।