
শেষ আপডেট: 22 March 2020 18:30
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ডেটা বলছে, হিসেব করে দেখতে গেলে ভারতে ৮৪ হাজারের জন্য বরাদ্দ একটামাত্র আইসোলেশন বেড। যদি কোয়ারেন্টাইনে পাঠাতে হয়, তাহলে একটা বেড ধার্য প্রতি ৩৬ হাজার দেশবাসীর জন্য।
চমকের শেষ এখানেই নয়। ঘুম উড়িয়ে দেওয়ার মতো তথ্য হল, যদি করোনার সংক্রমণ মহামারী হয়ে দেখা দেয় তাহলে চিকিৎসা করার মতো ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদেরও অভাব রয়েছে এ দেশে। দেখতে গেলে প্রতি ১১,৬০০ জনের জন্য ডাক্তার রয়েছেন একজন। আর প্রতি ১,৮২৬ জন রোগীর জন্য হাসপাতালের বেড রয়েছে একটি।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি পরিসংখ্যানের কথা জানতেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাই তিনি লকডাউনেরই সিদ্ধান্ত নেন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন কতটা উপযোগী সেই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সার্বিক স্তরে। সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (হু) আধিকারিক মাইক রায়ান বলেছেন, লকডাউনের বদলে সচেতনতা অনেক বেশি উপযোগী। সংক্রামিত রোগীদের খুঁজে বার করে তাদের পরীক্ষা করানো দরকার। তা না হলে সংক্রমণ ঠেকানো যাবে না। আইসিএমআরের ইনস্টিটিউট অব জেনোমিক্স অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটিভ বায়োলজির ডিরেক্টর অনুরাগ আগরওয়াল বলেছেন, ভারত এখনও সংক্রমণের নিরিখে ‘স্টেজ ২’ অর্থাৎ দ্বিতীয় পর্যায়ে রয়েছে। স্টেজ-৩ ঠেকাতে সবচেয়ে আগে সামাজিক স্তরে মেলামেশা বন্ধ করতে হবে। সেদিক থেকে প্রধানমন্ত্রীর ‘জনতা কার্ফু’-র সিদ্ধান্ত একদমই সঠিক ছিল। লকডাউনের ঘোষণাও ঠিক। কারণ এ দেশে সংক্রমণ মহামারীর চেহারা নিলে তাকে রোখার মতো পরিকাঠামোর অভাব রয়েছে। আইসিএমআরের ডিজি ড. বলরাম ভার্গব বলেছেন, স্টেজ-২ থেকে স্টেজ-৩ যেতে বেশি সময় লাগবে না। ভারতে যেভাবে সংক্রামিতের সংখ্যা বাড়ছে তাতে সামাজিক স্তরে সংক্রমণ ছড়াতে বেশি দেরি নেই। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে তাই লকডাউনই সঠিক পথ।