দ্য ওয়াল ব্যুরো: অশোকনগরের ছবিটাই কি পালটে যাবে? কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়ামমন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের বক্তব্যের পর আশায় বুক বাঁধছেন উত্তর ২৪ পরগনার এই জনপদের মানুষজন।
শুক্রবার ছিল মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের বার্ষিক সাধারণ সভা। সেখানে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেছেন, ওএনজিসি তাঁকে জানিয়েছে, অশোকনগরে মাটির নীচে বিপুল পরিমাণ খনিজ তেলের ভাণ্ডার রয়েছে। পাওয়া যেতে পারে প্রাকৃতিক গ্যাসও। তা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।
২০১৮-য় অয়েল অ্যান্ড ন্যাশনাল গ্যাস কর্পোরেশন জানায়, অশোকনগরের একটি পাতকুয়ো থেকে দিনে ১ লক্ষ ঘন মিটার গ্যাস নির্গত হচ্ছে। এর আগে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় মাটির নীচে গ্যাসের সন্ধান মিলেছিল বলে জানিয়েছিলেন গবেষকরা। কিন্তু পরে দেখা যায়, তা ব্যবহারের যোগ্য নয়।
কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়ামমন্ত্রী আরও বলেছেন, অশোকনগর থেকে উত্তোলিত তেল পাঠানো হয়েছে হলদিয়া শোধনাগারের ল্যাবোরেটরিতে। সেখানে গুণমান খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, শিগগিরই অশোকনগরে এসে ওই এলাকা পরিদর্শন করবেন। ১৯৯৮ সাল থেকে ওএনজিসি গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জায়গায় খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের সন্ধানে খনন কার্য চালায়। কিন্তু বজবজ থেকে বেলুড়—বারবার ব্যর্থ হয় তারা। শেষপর্যন্ত অশোকনগরে খননকার্য চালিয়ে সাফল্য এসেছে। ওএনজিসি আধিকারিকদের আশা, সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০২০-২১ অর্থবর্ষ অর্থাৎ আগামী মার্চ মাসের মধ্যেই বাণিজ্যিকভাবে তেল উত্তোলন শুরু যাবে।
সন্দেহ নেই শেষ অবধি যদি বাণিজ্যিক ভাবে খনিজ তেল উত্তোলনের কাজ অশোকনগরে শুরু হয় তাহলে এলাকার অর্থনীতির ছবিটাই বদলে যাবে। শুধু অশোকনগর কেন। আশপাশের বড় এলাকায় এর প্রভাব পড়বে। যদিও অশোকনগরের প্রবীণ মানুষরা বলছেন, এই খবর নিঃসন্দেহে আনন্দের। কিন্তু ২০১৮ সাল থেকেই এই কথা শুনে আসছে এলাকার মানুষ। অনেক যন্ত্রপাতি এনে গবেষণা হয়েছিল। কিন্তু এখনও কিছু দাঁড়ায়নি। ফলে আগে সবটা হোক। আগে থেকে অতি উৎসাহী না হওয়াই ভাল।