দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা নির্বাচনের দফা যত এগিয়েছে, ততই চড়েছে পারদ। রাজনৈতিক ভাবে এ কথা যদি প্রাসঙ্গিক হয়, তাহলে পিছিয়ে নেই প্রকৃতিও। বরং সমান তালে পাল্লা দিচ্ছে। আর হাওয়া অফিসের অনুমান অনুযায়ী শেষদিনেও গরমে হাঁসফাঁস করতে করতেই শহরবাসীকে যেতে হবে ভোট কেন্দ্রে।
ইতিমধ্যেই আগামী ৪৮ ঘণ্টা দক্ষিণবঙ্গের ৮ জেলায় তাপ প্রবাহের সতর্কতা জারি করেছে হাওয়া অফিস। দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের ৮ জেলায় জারি হয়েছে এই সতর্কতা। রাজ্যে বজায় থাকবে আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও। তাপমাত্রা থাকবে স্বাভাবিকের তুলনায় ২ থেকে ৩ ডিগ্রি বেশি। এমনটাই জানিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী শেষ দফার নির্বাচনেও অর্থাৎ রবিবার কলকাতার পারদ থাকতে পারে ৩৭ কিংবা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে। সঙ্গে থাকবে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত আপেক্ষিক আর্দ্রতা। আর বাতাসে অতিরিক্ত জলীয় বাষ্পের কারণেই সারাদিন ঘেমেনেয়ে একসা হবেন শহরবাসী। অতএব, শেষদিনেও ভ্যাপসা গরমে ঘামতে ঘামতেই ভোট দিতে হবে কলকাতাবাসীকে।
মাঝে হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী দু'দিন বিক্ষিপ্ত ঝড়-বৃষ্টি হওয়ায় সাময়িক স্বস্তি পেয়েছিলেন দক্ষিণবঙ্গবাসী। তবে ফের পারদ চড়েছে কলকাতা সহ অন্যান্য জেলাতে। চড়া রোদের সঙ্গে উপরি পাওনা অতিরিক্ত আর্দ্রতা। ভ্যাপসা গরমে নাজেহাল অবস্থা মানুষের। আর এই অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণেই বাস্তবে তাপমাত্রা ৩৭ কিংবা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলেও রিয়েল ফিল বলছে ৪০ ডিগ্রি বা তারও বেশি। জ্বালা ধরানো রোদের সঙ্গে স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ঘেমেনেয়ে একসা হচ্ছেন শহরবাসী।
গত কয়েকদিনে শহরের তাপমাত্রা ঘোরাফেরা করেছে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশের। তবে দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কিছু জেলায় পারদ ছুঁয়েছিল ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। কোথাও কোথাও পারদ চড়েছিল তার থেকেও বেশি। তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করেছিল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। পূর্বাভাস মেনে লু বয়েওছিল বেশ কিছু জেলায়। আবহবিদরা জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ফণী হানা দেওয়ার পরেই বঙ্গোপসাগর থেকে সরে গিয়েছিল উচ্চচাপ বলয়। এর ফলেই বিহার এবং ঝাড়খণ্ড থেকে গরম হাওয়া ঢুকেছিল দক্ষিণবঙ্গে এবং তাপপ্রবাহ হয়েছিল বেশ কিছু জেলায়।
তবে ফণীর প্রভাব কেটে গেলে ফের উচ্চচাপ বলয় তৈরি হয় বঙ্গোপসাগরের উপর। কিন্তু তাতে বৃষ্টির সম্ভাবনা দেখা যায়নি। উল্টে বাতাসে বেড়েছে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ। স্বাভাবিকের তুলনায় অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করছেন শহরবাসী। তার মধ্যে আগামী ২ দিন তাপপ্রবাহের পূর্বাভাস দিয়েছে হাওয়া অফিস। তাই আপাতত গরমের হাত থেকে রেহাই নেই দক্ষিণবঙ্গবাসীর।