দ্য ওয়াল ব্যুরো: উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় পাশ করিয়ে দেওয়ার দাবিতে সংসদ অফিসের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেছে ছাত্রীরা। শনিবার দুপুরের পর থেকেই বারাসাতের ত্রিনাথ বালিকা বিদ্যাপীঠের ছাত্রীরা সংসদ অফিসের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে। কয়েকজন ছাত্রী রাস্তার ওপরেই বসে পড়ে পথ অবরোধ করে। ছাত্রীদের বুঝিয়ে বিক্ষোভ তোলার জন্য ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে বিধাননগর পূর্ব থানার পুলিশ।
বৃহস্পতিবার উচ্চমাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পরেই কলকাতা সহ জেলায় জেলায় বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। এ বছর করোনার জন্য পরীক্ষা হয়নি। ছাত্রছাত্রীদের নম্বরের মূল্যায়নের জন্য উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ নির্দেশিকা জারি করে তাদের বিশেষ একটি ফর্মুলার কথা জানায়। সমস্ত স্কুলগুলিতে পাঠানো হয় সেই নির্দেশিকা। কিন্তু ফলপ্রকাশের পরে দেখা যায়, বেশিরভাগ স্কুলেরই একটা বড় অংশের ছাত্রছাত্রী ফেল করে গেছে। এরপরেই অভিযোগ ওঠে, নম্বর যোগ করাতে গড়মিল হয়েছে। অনেক ছাত্রছাত্রী এও জানায়, তাদের রেজাল্টে প্রজেক্টের নম্বর যোগ করাই হয়নি, আবার অনেকের অভিযোগ একাদশের যে নম্বর যোগ করার কথা ছিল তা সঠিকভাবে পাঠায়নি স্কুলগুলো। তাই ফেল করে গেছে অনেকেই।
কেন ফেল করানো হল, এই স্লোগান তুলে গতকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় উচ্চমাধ্যমিকের ছাত্রছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করেছে। এদিন বারাসাতের ত্রিনাথ বালিকা বিদ্যাপীঠের ছাত্রীরা সংসদ অফিসের সামনে ধর্না দেয়। ছাত্রীদের দাবি, ফেল করানোর থাকলে একাদশেই করিয়ে দিতে পারত। উচ্চমাধ্যমিকের বোর্ড পরীক্ষায় ফেল মানে গোটা একটা বছর নষ্ট হয়ে যাবে। এক ছাত্রীর অভিযোগ, "স্কুল এসবের দায় নিতে চাইছে না। আমাদের এখানে পাঠিয়ে দিয়েছে। বলেছে, সংসদ অফিসে এলে কিছু হবে। আমাদের পাশ করাতেই হবে।"
বেহালার কয়েকটি স্কুলের সামনে গতকালও এমন ছবি দেখা গিয়েছিল। শিবরামপুর ননীলাল বিদ্যাপীঠ, বড়িশার জনকল্যাণ বিদ্যাপীঠের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা গিয়েছিল ছাত্রীদের। তাদেরও অভিযোগ ছিল, কীভাবে এতজন ছাত্রী ফেল করল সে নিয়ে কোনও সদুত্তর দেয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষও। অনেকের আবার মার্কশিটও ব্ল্যাঙ্ক এসেছে বলে দাবি করা হয়েছিল।