রায়গঞ্জে স্বামীর ঘর করতে চেয়ে ধরনা গৃহবধূর, সালিশি সভায় এল না অভিযুক্ত, তালাকের ‘নকল’ নথি দেখালেন শ্বশুরবাড়ির লোক
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চেয়ে তাঁরই বাড়ির দোরগোড়ায় ধরনায় বসলেন এক প্রতারিতা গৃহবধূ। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার থানার সুরুন গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ওই গৃহবধূ বুধবার রাত থেকে অনশন শুরু করেছেন।
সুরুন গ্রাম পঞ্চ
শেষ আপডেট: 6 August 2020 12:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর দিনাজপুর: স্বামীর কাছে ফিরে যেতে চেয়ে তাঁরই বাড়ির দোরগোড়ায় ধরনায় বসলেন এক প্রতারিতা গৃহবধূ। উত্তর দিনাজপুরের ইটাহার থানার সুরুন গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা ওই গৃহবধূ বুধবার রাত থেকে অনশন শুরু করেছেন।
সুরুন গ্রাম পঞ্চায়েতের পাড়াহরিপুর গ্রামের বাসিন্দা পারভিনা খাতুন। গত বছর তাঁর বিয়ে হয় রায়গঞ্জ থা নার গৌড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের নুড়িপুর এলাকার গর্ণা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা আর্শাদ আলমের সঙ্গে। কিছুদিন ঘর করার পর আর্শাদ চম্পট দেয় বলে অভিযোগ। বুধবার রাত থেকে স্বামীর বাড়ির বাইরে ধরনায় বসেছেন পারভিন। বৃষ্টি, ঝড়ো হাওয়া ও রোদ্দুর উপেক্ষা করে তিনি ধরনা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তাতেও দেখা মেলেনি স্বামীর। তিনি বলছেন, যতক্ষণ না তাঁর স্বামী এসে তাঁকে ঘরে তুলবেন ততক্ষণ তিনি একই ভাবে পড়ে থাকবেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গর্ণা গ্রামে।
তাঁর স্বামী আর্শাদ আলম এখন বেপাত্তা বলে জানা গেছে।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য আইনুদ্দিন আহমেদ নির্যাতিতা ওই মহিলার খাবারের ব্যবস্থা করলেও পারভিন অনশনে অনড়। গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সমাধানের জন্য আর্শাদ আলমকে সালিশি সভায় ডেকেছিলেন। তবে আর্শাদ আলম আসেনি। পারভিনা অনশনে বসার পর থেকে সে গা ঢাকা দিয়েছে।
নুড়িপুর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, একের পর এক বিয়ে করে কিছুদিন সহবাস এবং সংসার করে আর্শাদ। তারপর পালিয়ে যায়। কিছুদিন পরে আবার অন্য জায়গায় গিয়ে একই কাজ করে। গত বছর জানুয়ারি মাসে পারভিনাকে মুসলিম রীতি মেনে বিয়ে করেছিল সে। তারপর আসে রায়গঞ্জ শহরে। বন্দর এলাকার একটা ভাড়া বাড়িতে কিছু দিন থাকার পরে এক রাতে আচমকা সে পালিয়ে যায়। পারভিনা তাকে ফোন করলে আর্শাদ নাকি তাঁকে বলে, বাড়িতে বেশ কিছু সমস্যা আছে। সেগুলো না মিটিয়ে পারভিনাকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
পারভিনার অভিযোগ, এর কিছু দিন পর থেকে পারভিনার ফোন ধরাও বন্ধ করে দেয় আর্শাদ। পারভিনা পাড়ার লোকজনের সাহায্য নেন বাড়ি ফিরতে। বুধবার গ্রামবাসীরা দু'পক্ষকে নিয়ে সালিশি সভায় বসার দিন ঠিক করেছিলেন। তাতে যোগ দেয়নি আর্শাদ। সেই রাতেই আর্শাদের গর্ণা গ্রামের বাড়ির সামনে ধরনায় বসেন তিনি। আর্শাদ তাঁকে ঘরে না তুললে তিনি আমরণ অনশন করবেন বলে জানিয়েছেন।
আর্শাদ আলমের দাদা রশিদুল আলম জানিয়েছেন, ওই বাড়িতে তাঁর ভাই থাকেন না। দু’ মাস ধরে তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। তবে ফোনে যোগাযোগ রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন। তাঁরা বিবাহবিচ্ছেদ সংক্রান্ত একটি নথি দেখিয়েছেন যদিও সেটি নকল বলে অভিযোগ।

স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য আইনুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আর্শাদের সম্পর্কে এর আগেও এ ধরনের অভিযোগ ছিল। পারভিনা খাতুনের বিষয়টি আলোচনায় বসে মিটিয়ে নেওয়ার জন্য বলা হলেও আর্শাদ আসেনি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।