দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঘের শীত নাকি ‘বাঘা’ শীত। কিন্তু গত কয়েক বছরে মাঘে শীতের তেমন প্রকোপ বোঝা যায়নি। এ বছরেও তেমনটা হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সকাল থেকে কনকনে উত্তুরে হাওয়ায় কমবেশি শিরশিরানি মালুম হচ্ছে ঠিকই, তবে শীতের দাপট আর সেভাবে ফিরবে না বলেই জানিয়ে দিয়েছে আলিপুর হাওয়া অফিস। ওই ভোরবেলা আর রাতের দিকে হিমেল হাওয়ায় শীতের আমেজ ভরপুর থাকবে। কিন্তু বেলা গড়ালেই ঝাঁঝাঁলো রোদ উঠবে। অতএব শীতের বিদায়বেলা এসে গেল বলে। তবে যাওয়ার আগে এখনও কিছুদিন চালিয়ে ব্যাট করে যাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
হাওয়া অফিস বলছে, কলকাতার তাপমাত্রা সামান্য কমেছে। মাঘের আবছা মেজাজ বোঝা যাচ্ছে। সকালে ও সন্ধে গড়ালে শিরশিরানি ঠান্ডা। থার্মোমিটারের পারদ বলছে, কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা এখন ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে রাতের দিকে তাপমাত্রার পারদ নেমে যাচ্ছে। দক্ষিণের জেলাগুলিতে আরও কয়েকদিন দাপট দেখাবে শীত। তাপমাত্রা ১৫ থেকে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই ঘোরাফেরা করবে।
আগামী কয়েকদিন শীত শীত ভাবটা ভালই থাকবে। শেষ বেলায় পাওনা বলতে ওটুকুই। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানাচ্ছে, শীত বিদায় নিলেই ফের মাথাচাড়া দেবে পারদ। কলকাতার তুলনায় বিভিন্ন জেলার তাপমাত্রা অনেকটা কম রয়েছে ঠিকই। কিন্তু চলতি সপ্তাহের পর থেকে সেখানেও তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। তবে জেলায় শীত-ভাবটা পুরো কাটতে কয়েক দিন বেশি সময় লাগবে। এ বছর পৌষ-সংক্রান্তি ও মাঘ পয়লাকে ধরে কয়েকদিনই জাঁকিয়ে শীত পাওয়া গিয়েছিল। এবারে শীত শুধু লুকোচুরি খেলেছে। উত্তুরে হিমেল হাওয়াই যা একটু দাপট দেখিয়েছে, যেমন শীতের মতো শীত অধরাই থেকে গেছে।
কুয়াশার চাদর এখনই সরছে না। উত্তরবঙ্গে তো ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলেছেন, ভোরে ও রাতের দিকে এমনভাবে পরতে পরতে কুয়াশার স্তর জমবে যে দৃশ্যমানতা ৫০ মিটারে নেমে যাবে। উত্তরবঙ্গের মালদা, দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ঘন কুয়াশার সতর্কতা জারি হয়েছে। দৃশ্যমানতা ২০০ মিটারের কাছাকাছি থাকবে।
দক্ষিণের জেলাগুলিতে মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, বীরভূম, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম বর্ধমানে হাল্কা থেকে মাঝারি কুয়াশা থাকবে। কলকাতাতেও তেমনই থাকবে। ভোরের দিকে হাল্কা কুয়াশার স্তর থাকবে। আজ সারাদিনই কমবেশি মেঘলা আকাশ থাকবে। কনকনে উত্তরের হাওয়ায় রাতের দিকে তাপমাত্রা আরও কমবে।