দ্য ওয়াল ব্যুরো: আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আজ উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হবে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় শক্তি বাড়িয়ে ঘনীভূত হবে নিম্নচাপ। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস এই নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বৃষ্টি চলবে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই। মূলত গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ, উপকূলীয় অঞ্চল এবং দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোয় নিম্নচাপের প্রভাব সবচেয়ে বেশি থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর।
আলিপুরের পূর্বাভাস, রবিবার থেকেই বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি শুরু হবে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায়। ধীরে ধীরে বাড়বে বৃষ্টির তীব্রতা এবং স্থায়িত্ব। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার ২৬ অগস্ট সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু জেলায় জারি হয়েছে সতর্কতা। আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে সমুদ্র উত্তাল হতে পারে। তাই মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মঙ্গলবার থেকেই বিক্ষিপ্ত ভাবে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার আরও বাড়বে বৃষ্টি। বৃহস্পতিবারও বৃষ্টি দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায়। তারপর আবহাওয়ার উন্নতি হতে পারে।
গত সপ্তাহেও উত্তর বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল। তার প্রভাবে গত মঙ্গলবার থেকে প্রায় রোজই দক্ষিণবঙ্গের প্রায় অব জেলাতেই বিক্ষিপ্ত ভাবে বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও হাল্কা, কোথাও মাঝারি, কোথাও বা ভারী বৃষ্টির জেরে ইতিমধ্যেই জলমগ্ন রয়েছে বেশ কিছু এলাকা। অন্যদিকে সুপারসাইক্লোন উমফানের ধাক্কা এখনও সে ভাবে কাটিয়ে উঠতে পারেনি দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলি। তার মধ্যেই জোড়া নিম্নচাপের ফলায় ফের টানা দুর্যোগ চলছে দক্ষিণবঙ্গে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন রয়েছে প্রশাসন। অন্যদিকে আলিপুর জানিয়েছে, মরশুমে বৃষ্টির যেটুকু ঘাটতি ছিল তা এই বর্ষণের ফলে পূরণ হয়ে যাবে।
আজ রবিবার ২৩ অগস্ট সকাল থেকে আংশিক মেঘলা রয়েছে আকাশ। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে আজ দক্ষিণবঙ্গের গড় তাপমাত্রা ২৬ থেকে ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে। আজ সকালে শহর কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৬.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৭৮ থেকে ৯৮ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৫.৩ মিলিমিটার। আলিপুর জানিয়েছে, নিম্নচাপের সঙ্গে গাঙ্গেয় উপত্যকা বরাবর অবস্থিত সক্রিয় মৌসুমী অক্ষরেখা কারণেই এই বৃষ্টি হবে।