দ্য ওয়াল ব্যুরো: বঙ্গোপসাগরে ক্রমশ ঘনীভূত হচ্ছে নিম্নচাপ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্তি বাড়িয়ে আরও শক্তিশালী হচ্ছে এই নিম্নচাপ। আর তার জেরেই আজ এবং আগামীকাল অর্থাৎ ১৪ এবং ১৫ অগস্ট ঝেঁপে বৃষ্টি হবে দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলায়। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, মূলত ওড়িশা উপকূল এবং সংলগ্ন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের উত্তর উপকূলে বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে এই নিম্নচাপ। তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলা এবং গাঙ্গেয় উপকূলে মূলত ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে এই দু'দিন। হাওয়া অফিস জানিয়েছে, তুমুল বৃষ্টির সঙ্গে বইতে পারে ঝোড়ো হাওয়া। সমুদ্র উত্তাল হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। তাই আগামীকাল অর্থাৎ রবিবার পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যাওয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
আলিপুর জানিয়েছে, কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, দুই বর্ধমান, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম, নদিয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম----দক্ষিণবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই শনি এবং রবিবার বৃষ্টি হবে। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবারও বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল হাওয়া অফিস। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী গতকালও কলকাতা, হাওড়া, হুগলি-সহ একাধিক জেলায় ভালোই বৃষ্টি হয়েছে। শনিবার সকাল থেকেও আংশিক মেঘলা রয়েছে আকাশ। মাঝে মাঝে অবশ্য রোদের ঝলকও পাওয়া যাচ্ছে।
আজ সকালে শহর কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি বেশি। গতকাল সন্ধ্যায় কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস যা স্বাভাবিকের থেকে ১ ডিগ্রি বেশি। বাতাসে আপেক্ষিক আর্দ্রতার পরিমাণ ৭৫ থেকে ৯২ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টি হয়েছে ৬.৫ মিলিমিটার। আজ দক্ষিণবঙ্গের তাপমাত্রা ২৭ থেকে ৩২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। হাওয়া অফিস জানিয়েছে রবিবার থেকে আবহাওয়া উন্নতি হবে দক্ষিণবঙ্গে। যদিও আগামীকাল পশ্চিমের জেলাগুলোয় বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি।
অন্যদিকে দিঘা উপকূলে শনিবার সকাল থেকেই রয়েছে নিম্নচাপের প্রভাব। আকাশ রয়েছে মেঘলা। বৃষ্টিও শুরু হয়েছে ইতিমধ্যেই। উত্তাল হয়েছে সমুদ্র। নিরাপত্তার খাতিরে দিঘা উপকূলে আবহাওয়া দফতরের তরফে সতর্কতা মূলক মাইকিং চলছে। সপ্তাহ শেষে ছুটির কারণে এখন দিঘায় পর্যটকের ভিড় রয়েছে। তবে সতর্কতা স্বরূপ পর্যটকদের সমুদ্রে নামতে বারণ করা হয়েছে। অমাবস্যার কোটালের প্রভাবে সমুদ্র এর মধ্যেই ফুঁসতে শুরু করেছে। তাই মৎস্যজীবীদের ক্ষেত্রেও সমুদ্রে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি তাজপুর, জামড়া, শ্যামপুর, জলধা এবং মন্দারমনির দুর্বল বাঁধের দিকে নজর রাখা হচ্ছে। নিরাপত্তার খাতিরে উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।