দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা হঠাৎই বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক। কেন্দ্রের আরও উদ্বেগ, বাংলায় পঞ্চাশ বছরের কম বয়সীদের মৃত্যুর হার বাড়ছে। এ ব্যাপারে রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগমকে দীর্ঘ চিঠি পাঠিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের যুগ্মসচিব লব আগরওয়াল।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের পরামর্শ, কোভিডে আক্রান্ত কম বয়সীদের মৃত্যুর হার কমাতে অবিলম্বে আরও উদ্যোগী হতে হবে নবান্নকে। এ ক্ষেত্রে ফেটালিটি রেট তথা মৃত্যুর হার কমিয়ে ১ শতাংশ করার লক্ষ্য নিয়ে চলতে হবে। কারও শরীরে কোভিড পজিটিভ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সংস্পর্শে আসা ৮০ শতাংশ মানুষকে ৭২ ঘন্টার মধ্যে চিহ্নিত করে ফেলা অপরিহার্য।
লব আগরওয়াল চিঠিতে লিখেছেন, “গত চার দিনে পশ্চিমবঙ্গে গড়ে প্রতিদিন ১৬০০ জনকে কোভিড পজিটিভ পাওয়া গিয়েছে। ৯৩ শতাংশ অ্যাকটিভ কেস মূলত কলকাতা, হাওড়া, এবং দুই চব্বিশ পরগনা জেলায় রয়েছে। তা ছাড়া ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, নদিয়া, পূর্ব মেদিনীপুর, হুগলি নতুন করে হটস্পট হয়ে উঠছে।” এই কারণেই লকডাউন করে, কন্টেনমেন্ট এলাকাগুলিতে নজরদারি ও টেস্টিং বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিয়েছে নির্মাণ ভবন।
লব আগরওয়াল তথা কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বক্তব্য, “কলকাতায় যে ভাবে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে তা মোকাবিলার জন্য আরও কার্যকরী ও জোরালো কৌশল নিতে হবে। জাতীয় গড়ের তুলনায় রাজ্যে সামগ্রিক ভাবে কোভিড টেস্টের সংখ্যা এখনও বেশ কম। গত তিন সপ্তাহ ধরে যে ভাবে পজিটিভ কেস বাড়ছে তা সত্যিই উদ্বেগের বিষয়”।
পশ্চিমবঙ্গে কোভিড পরিস্থিতি
• শনিবার পর্যন্ত রাজ্যে মোট ৪০,২০৯ টি কোভিড পজিটিভ কেস পাওয়া গিয়েছে।
• এখনও পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১০৭৬ জনের।
• তবে বাংলায় এখনও কোভিড টেস্টের সংখ্যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই কম। প্রতি মিলিয়নে ৬৭৯০ জনের টেস্ট হচ্ছে। অথচ এ ক্ষেত্রে জাতীয় গড় হল প্রতি মিলিয়নে ৯৭৯৫।
• গত সাত দিনে রাজ্যে গড়ে পজিটিভিটি রেট হল ১৩.১৮ শতাংশ।
• রাজ্যে কোভিডে মৃত্যুর হার ২.৬ শতাংশ, যা জাতীয় গড় ২.৫ শতাংশের তুলনায় সামান্য বেশি।
• রাজ্যে ৬৫০ টি কন্টেনমেন্ট জোন রয়েছে।
রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিবকে চিঠিতে লব আগরওয়াল আরও বলেছেন, মৃত্যুর হার ১ শতাংশের কমে নামিয়ে আনতে প্রতি সপ্তাহে মৃতের সংখ্যা পর্যালোচনা করে দেখতে হবে। এও দেখতে হবে কোন কোভিড হাসপাতালে মৃত্যুর হার কত। কোন এলাকায় কোভিডে বেশি মৃত্যু হচ্ছে। তা ছাড়া বাংলায় যে হেতু পঞ্চাশ বছরের কম বয়সী কোভিড আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যুর হার বেশি তাই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ সম্পর্কে মানুষকে আরও সচেতন করাও জরুরি বলে জানিয়েছেন লব আগরওয়াল।