দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথা দিয়েছিলেন গত বুধে। কথা রাখলেন এই বিষ্যুদে।
ইসলামপুর ইস্যুতে বিজেপি-র ডাকা বাংলা বনধের দিনই অগ্নিগর্ভ দাড়িভিটে পৌঁছে গেছিলেন রাজ্যের পরিবহণ ও পরিবেশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সে দিন রাজনৈতিক উত্তেজনাও ছিল তুঙ্গে। এক দিকে রণংদেহী বিজেপি। অন্যদিকে শুভেন্দুর নেতৃত্বে শাসক দলের বনধবিরোধী কর্মসূচি। যেখানে পরিবহণমন্ত্রীর সভা করার কথা ছিল সেদিন, সেখানে পৌঁছতেও বিস্তর কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল তাঁকে। কিন্তু নন্দীগ্রাম আন্দোলন থেকে উঠে আসা নেতা দাড়িভিটে সেদিনই ঘোষণা করেছিলেন, “লক্ষণ শেঠের সিপিএম আমাকে ১১ বার নন্দীগ্রামে ঢুকতে বাধা দিয়েছিল। পারেনি। এখানেও বিজেপি পারল না। আমি কথা দিয়ে গেলাম। আবার ইসলামপুর আসব।”
বৃহস্পতিবার ইসলামপুর গেলেন শুভেন্দু। তবে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। বরং সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দিতে। ইসলামপুরের বাস ডিপোর উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি জায়গা থেকে সাতটি নতুন রকেট পরিষেবার সূচনা করলেন এ দিন। ভেঙে পড়তে বসা ইসলামপুরের বাস ডিপোর সংস্কারের পর তা নতুন করে উদ্বোধনও করেন তিনি। কিন্তু সরকারি অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই বিজেপি-র বিরুদ্ধে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন এ দিন।
শুভেন্দু বলেন, “সে দিন (পড়ুন বনধের দিন) দেখে এসেছি সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু বেছে বেছে এনবিএসটিসি-র দুট গাড়িকে পুড়িয়েছে। ক্ষতি আমাদের করতে পারেননি। এফআইআর হয়েছে। ১৭টা গ্রেফতার হয়েছে। পুলিশকে ধন্যবাদ। আরও গ্রেফতার করতে হবে। সব ছবি আছে। কারা বাস ভেঙেছে, পুড়িয়েছে। বাস পোড়ানো কোনও সুপুরুষের কাজ নয়। এটা কাপুরুষের কাজ।” সেই সঙ্গে গেরুয়াবাহিনীর দিকে হুঁশিয়ারির সুরেই শুভেন্দু বলেন, “এই অনুষ্ঠানটা মাটিগাড়ায় হওয়ার কথা ছিল। আমি ভেবেছিলাম বাগডোগড়ায় নেমে ওখানথেকেই উদ্বোধন করে দেব। কিন্তু নিউটনের তৃতীয় সূত্র আছে। প্রতিটা ক্রিয়ার সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে।” এর বেশি কিছু না বললেও শাসক দলের নেতারা বলছেন, বোঝার জন্য ইশারাই যথেষ্ট।
অনুষ্ঠান শেষের পর পরিবহণমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, “কারা গুলি চালিয়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশা আছে। তদন্ত চলছে। এখন কাজ দুষ্কৃতীদের খুঁজে বের করা।” তিনি এ-ও বলেন, “রাজেশ, তাপসের পরিবার যখনই সরকারের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহ দেখাবে আমরা চলে আসব। স্থানীয় বিধায়ক, মন্ত্রী গোলাম রব্বানি ওই দুই পরিবারের টাচে আছেন।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, সে দিন শুভেন্দুকে হেনস্থা করার চেষ্টা করেছিল বিজেপি। সে দিন তো নিজের কর্মসূচি করেইছেন। ন’দিনের মাথায় এসে আবার ইসলামপুর এসে শুভেন্দু বুঝিয়ে দিলেন এক ইঞ্চিও জমি ছাড়া হবে না বিজেপি-কে।
যদিও বিজেপি নেতাদের কথায়, এ দিন শুভেন্দুবাবু ড্যামেজ কন্ট্রোলে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হবে না। কারণ দুটো তরুণ প্রাণ ঝরে গেছে। রকেট বাস দিয়ে সেই ড্যামেজ কন্ট্রোল হবে না।