দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে লকডাউনের জেরে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা যাচ্ছে না। ফলে রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। এই সংকট মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে সতর্ক ভাবে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হল পূর্ব বর্ধমান জেলার শালবাগানে।
দেশজোড়া লকডাউনের জেরে রক্তদান শিবির না হওয়ায় রক্তের জোগান কমছে হাসপাতালগুলিতে। ফলে সমস্যা বাড়ছে। তাই বর্ধমান মেডিকেল কলেজের তরফে বুধবার আহ্বান জানানো হয় যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ছোট মাপের রক্তদান শিবিরের আয়োজন করতে। সেই আবেদনে সাড়া দিয়ে পূর্ব বর্ধমান জেলার প্রথম রক্তদান শিবির হল বর্ধমানের শালবাগানে। সর্বমিলন সঙ্ঘ নামে একটি ক্লাব এই শিবিরের আয়োজন করে। এখানে কয়েক জন মহিলা-সহ তিরিশ জন রক্তদান করেন। অনাড়ম্বর ভাবে শিবির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের পক্ষে বিশ্বজিৎ মণ্ডল বলেন, “নির্দিষ্ট দূরত্ব ও নিয়মবিধি মেনেই শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে।”
যাঁরা রক্ত দিতে এসেছেন আগেই দেখে নেওয়া হয় তাঁদের মধ্যে কারও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোনও উপসর্গ আছে কিনা। তাঁদের থার্মাল স্ক্রিনিং করেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তাররা।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের ডেপুটি সুপার কুণালকান্তি দে বলেন, “এই ভাবে সবাই যদি এগিয়ে আসেন এবং সচেতন ভাবে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করেন তাহলে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল রক্ত সংকট থেকে মুক্তি পাবে।” পাশাপাশি তিনি জানান যে ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন রক্তদান শিবিরের আয়োজনের জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছে। যাঁরা রক্তদান শিবিরের আয়োজন করছেন বা করবেন তাঁদের পরিষ্কার বলে দেওয়া হয়েছে যে রক্তদান শিবিরে একই জায়গায় বেশি রক্তদাতাকে হাজির করা যাবে না। দরকারে দু’বার বা তিন বারে এই আয়োজন করতে হবে। অর্থাৎ বেশি মানুষ রক্ত দিতে চাইলে পর পর কয়েক দিন আয়োজন করতে পারেন।
জেলাশাসক বিজয় ভারতী বলেন, “বর্ধমান হাসপাতালে ব্লাডব্যাঙ্কে রক্তসংকট এড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসন বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে।” একই কথা জানান জেলা পুলিশ সুপার ভাস্কর মুখোপাধ্যায়ও। তাঁরাও প্রস্তুত আছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন প্রয়োজনে তাঁরাও রক্তের ব্যবস্থা করবেন।