দ্য ওয়াল ব্যুরো: কে বলে উপনির্বাচনের ফলাফলে রেকর্ড গড়া যায় না! খড়্গপুর দেখিয়ে দিল যায় বইকি, আলবাৎ যায়! সাড়ে চার দশক পর এই প্রথম খড়্গপুর বিধানসভায় জিতল রাজ্যের কোনও শাসক দল। কারণ ৩৪ বছরের শাসনে বামেদেরও অধরা ছিল খড়্গপুর। এতদিন তৃণমূলও তার দখল নিতে পারেনি। কিন্তু এবার রেকর্ড ভাঙল। রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের ছেড়ে যাওয়া খড়্গপুর সদর আসনে গেরুয়া শিবিরকে ২০৮১১ ভোটে পরাস্ত করলেন তৃণমূলের প্রার্থী প্রদীপ সরকার।
গত লোকসভা ভোটেও খড়্গপুর সদর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপি এগিয়ে ছিল ৪৫ হাজারের বেশি ভোটে। তার আগে ষোলো সালের বিধানসভা ভোটে ত্রিমুখী লড়াইতে খড়্গপুরের প্রবাদপ্রতীম কংগ্রেস নেতা জ্ঞানসিংহ সোহনপালকে ৬৩০৯ ভোটে হারিয়েছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। ৩৪ হাজার ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে ছিল তৃণমূল।
কিন্তু খড়্গপুরে বিস্ময় ঘটালেন তৃণমূলের তরুণ নেতা তথা পরিবহণ ও সেচমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। লোকসভা ভোটের তুলনায় খড়্গপুরে ২৪১৩৫ টি ভোট বাড়িয়ে ফেলল তৃণমূল। ষোলো সালের ভোটের তুলনায় এই বৃদ্ধি আরও বেশি। হিসাব মতো ১৪২ শতাংশ তথা ৪৮,৩৬৭ ভোট বাড়িয়েছে তৃণমূল।

সন্দেহ নেই এই ফলাফলে বিজেপিকে অস্বস্তি গ্রাস করেছে। মুখ পুড়েছে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষের। সেইসঙ্গে আরও একবার প্রমাণিত হয়েছে, বাংলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর শাসক দলে সবথেকে কার্যকরী নেতা শুভেন্দু অধিকারীই।
তবে প্রশ্ন হল, কী ভাবে এই ভোট বাড়ল। কারণ, নতুন ভোটার তো বিশেষ আসেনি। খড়্গপুরে এবার ভোট লুঠ বা অশান্তির খবরও ছিল না। তাহলে ফারাকটা কী ভাবে তৈরি হল বিজেপি-তৃণমূলে।
শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, “আমি তো গোড়া থেকেই বলেছি দিলীপ ঘোষ অকর্মণ্য। খড়্গপুরের জন্য গত সাড়ে চার বছরে কোনও কাজ করেননি। দিল্লিতে বিজেপি সরকারের থেকেও রেলনগরীর জন্য কোনও প্রকল্প আদায় করে আনতে ব্যর্থ তিনি। তারই ফল পেয়েছে বিজেপি”। তাঁর কথায়, “মানুষ উন্নয়নের জন্য ভোট দিয়েছেন। ভোট প্রচারে সেই প্রতিশ্রুতিই দিয়েছিলাম আমরা”।
তবে ভাল করে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে খড়্গপুরে বাম-কংগ্রেসের ভোট এবার উল্লেখযোগ্য ভাবেই কমে গিয়েছে। অনেকের মতে সেই ভোটই চলে গিয়েছে তৃণমূলের খাতায়। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে খড়্গপুরে বাম-কংগ্রেসের জোট প্রার্থী হিসাবে জ্ঞানসিংহ সোহনপাল পেয়েছিলেন ৫৫০৯৩টি ভোট। এ বার সেখানে মাত্র ২২৬৩১ টি ভোট পেয়েছেন জোট প্রার্থী। বিজেপির ভোটও লোকসভার তুলনায় ৪১ হাজার কমে গিয়েছে। এর মধ্যে আরও একটি বিষয় পরিষ্কার, খড়্গপুরে বাঙালি ও অবাঙালি ভোট প্রায় সমানভাবে পেয়ে কিস্তিমাত করেছে তৃণমূল।