কালিয়াগঞ্জে পুনর্মূষিক বিজেপি, প্রথম জয় পেল তৃণমূল
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই তো ছ’মাস আগের কথা। মে মাসের ২৩ তারিখ। প্রবল দাবদাহের মধ্যে যখন রায়গঞ্জ লোকসভার গণনা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল এজেন্টরা বেরোচ্ছেন, মুখটা পানসে। মাথা নিচু। উল্টোদিকে গেরুয়া উছ্বাসে ভেসে যাচ্ছিল বিজেপি।
ঠিক ছ’মাস পর। রায়গঞ্জ লোক
শেষ আপডেট: 28 November 2019 09:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এই তো ছ’মাস আগের কথা। মে মাসের ২৩ তারিখ। প্রবল দাবদাহের মধ্যে যখন রায়গঞ্জ লোকসভার গণনা কেন্দ্র থেকে তৃণমূল এজেন্টরা বেরোচ্ছেন, মুখটা পানসে। মাথা নিচু। উল্টোদিকে গেরুয়া উছ্বাসে ভেসে যাচ্ছিল বিজেপি।
ঠিক ছ’মাস পর। রায়গঞ্জ লোকসভার অন্তর্গত কালিয়াগঞ্জ বিধানসভার উপনির্বাচনে পাল্টে গেল ছবিটা। লোকসভার নিরিখে যে বিধানসভায় বিজেপি এগিয়ে ছিল ৫৬ হাজারের বেশি ভোটে। নভেম্বরের হালকা শীতে সেখানেই বিপর্যয়। ৫৬ হাজারের ব্যবধান ঘুচিয়ে ২৩০৪ ভোটে জিতলেন তৃণমূল প্রার্থী তপন দেব সিংহ। ২২ বছর হতে চলল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছেন। এই প্রথম কালিয়াগঞ্জে জয় পেল তৃণমূল। ২০১১, ২০১৬—দু’বার সরকার গড়লেও উত্তরবঙ্গের এই বিধানসভা ছিল হাতের বাইরে।
ছ’মাসের মধ্যে এই পরিবর্তন দেখে অনেকেই বলছেন, বিজেপি পুনর্মূষিক হয়েছে কালিয়াগঞ্জে। কেন? পর্যবেক্ষকদের মতে, গত লোকসভায় উত্তরবঙ্গে একচেটিয়া সমর্থন এসেছিল বিজেপির বাক্সে। কার্যত ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছিল ঘাসফুল। এনআরসি ইস্যু ব্যুমেরাং হয়ে গেল বলেই মনে করছেন অনেকে। তাঁদের মতে, যে মানুষ তৃণমূলের থেকে পরিত্রাণ পেতে বেছে নিয়েছিলেন বিজেপিকে, ফের সেই মানুষই আঁকড়ে ধরলেন তৃণমূলকে। পর্যবেক্ষকদের ব্যাখ্যা, সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে ভিটে হারানোর ভয়। এই কেন্দ্রে বিপুল সংখ্যক মানুষ রাজবংশী সম্প্রদায়ের। তাঁদের মধ্যেও জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকরণ তথা এনআরসি ইস্যু কাজ করেছে বলে মনে করছেন অনেকে। আর কালিয়াগঞ্জ জয়ের পর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী বললেন, “বিজেপি অহঙ্কারের ফল পেয়েছে। ঔদ্ধত্য বাংলার মানুষ মেনে নেয় না।”

চিরাচরিত ভাবে উত্তর দিনাজপুর জেলা কংগ্রেসের গড় হিসেবে খ্যাত। একটা সময়ে প্রয়াত প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রিয়রঞ্জন দাসমুন্সির নামেই ভোট হতো এখানে। সেই ধারা বজায় ছিল ২০১৬-র ভোটেও। জিতেছিলেন কংগ্রেসের প্রমথনাথ রায়। তাঁর মৃত্যুর পরেই উপনির্বাচন হয় এই আসনে। আর সেখানে দেখা গেল বাম-কংগ্রেস জোটপ্রার্থী হিসেবে প্রয়াত প্রমথনাথবাবুর কন্যা ধীতশ্রী রায় কার্যত সাইড লাইনের বাইরে চলে গেলেন।
২০১৯-এর লোকসভা ভোটের ফলাফল দেখলে দেখা যাচ্ছে, কালিয়াগঞ্জ বিধানসভায় বিজেপি পেয়েছিল এক লক্ষ ১৮ হাজার ৮৯৫ ভোট। তৃণমূল পেয়েছিল ৬২ হাজার ১৩৩টি ভোট। লোকসভা ভোটে বাম-কংগ্রেস আলাদা লড়েছিল। তাদের মিলিত ভোট ছিল ৩৭ হাজার ৮০১টি ভোট। কিন্তু এই ছ’মাসের মধ্যে বাম-কংগ্রেসের ভোট নেমে এল ১৬ হাজার ২২৯টিতে। এই পরিসংখ্যান দেখে অনেকেই বলছেন, বাম-কংগ্রেস যে প্রায় ২২ হাজার ভোট কম পেল তার বেশিরভাগটাই চলে গিয়েছে তৃণমূলের দিকে। এবং আরও একটি নির্বাচনে বাম-কংগ্রেসের প্রাসঙ্গিকতা আরও কোণঠাসা হয়ে গেল বাংলায়। অনেকে বলছেন, হিসেবটা সোজা। এখন লড়াই তৃণমূল আর বিজেপির। এর মাঝে আর কেউ নেই।