দ্য ওয়াল ব্যুরো: জীবিত থাকতে থাকতে নিজের মূর্তি গড়িয়ে রেখেছেন গোসাবার তৃণমূল বিধায়ক জয়ন্ত নস্কর। পাছে কিছু অঘটন ঘটে গেলে পরিবারের লোকজন বা দলীয় কর্মীরা তা না করেন তাই তিন বছর আগে তিন-তিনটি ফাইবারের মূর্তি গড়িয়ে রেখেছেন নিজের বাড়িতেই।
কেন এমন ভাবনা?
বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা বলেন, “তিনবছর আগে পরিস্থিতি ছিল ভয়াবহ। সেই সময়ে আমায় খুনের ষড়যন্ত্র হয়েছিল। আমার উপর হামলাও করা হয়েছিল। প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলাম। তারপরই মূর্তি বানিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিই।”
তাঁর উচ্চতা সাড়ে পাঁচফুট। তিনটির মধ্যে দুটি মূর্তি একেবারে পা থেকে মাথা পর্যন্ত। তাঁর যা উচ্চতা, তাই। আরএকটি আবক্ষ মূর্তি। সেটি আবার নাকি বানিয়েছেন জয়ন্তবাবু যে স্কুলের পরিচালন সমিতির সভাপতি ছিলেন সেই স্কুলের প্রধান শিক্ষক।
পুরনো কংগ্রেসি বাড়িতে জন্ম জয়ন্তবাবুর। তাঁর দাদা ছিলেন কংগ্রেসের দাপুটে নেতা। ৮৭ সালের ভোটে লড়লেও হারতে হয়েছিল তাঁকে। তবে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর ১১ ও ১৬-র ভোটে গোসাবা থেকে জিতে বিধায়ক হন তিনি। কুমোরটুলি গিয়ে, শিল্পী খুঁজে মূর্তি গড়িয়েছেন বিধায়ক। নিজেই জানালেন, সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে একলক্ষ টাকা। কিন্তু দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কি জানেন? ভয় ভয় গলায় ৭০ পেরনো বিধায়কের উত্তর, “না! না! কেউ জানেন না! উনি জানলে ভীষণ রাগ করবেন।”
দক্ষিণের রাজনীতিতে এই ধরনের স্ট্যাচু সংস্কৃতি থাকলেও বাংলায় সেসব খুব একটা দেখা যায় না। তবে রাজনৈতিক মহলের অনেকের বক্তব্য, এমন ঘটনা বাংলায় শুরু হয়েছিল সেই বাম জমানায়। এবং তা শুরু করেছিলেন হুগলির তৎকালীন জেলা সম্পাদক প্রয়াত বিজয় মোদক। বলাগড় ব্লকের জিরাট কলেজের নামকরণ হয়েছিল বিজয়বাবুর নামে। সেই কলেজের উদ্বোধন করেছিলেন তিনি নিজে। যদিও হুগলির অনেক সিপিএম নেতার কথায়, বিজয়বাবু নাকি নিজের নাম রাখতে চাননি। জেলা পার্টিই নাকি তাকে জোর করে এটা করিয়েছিল। তাই তিনি নাকি জেলা কমিটিতে সিদ্ধান্ত করেছিলেন কলেজের নাম হবে বিজয়কৃষ্ণ মহাবিদ্যালয়। নামের পরে শুধু একটা কৃষ্ণ জুড়ে দিয়েছিলেন। সিপিএমের সে সব মারপ্যাঁচ থাকলেও তৃণমূল বিধায়কের সেসব নেই। এক্কেবারেই নেই।